জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের জয় পেল বাংলাদেশ

 মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড রান সংগ্রহ বাংলাদেশের।প্রথম ম্যাচেই রোডেশিয়ানদের বিপক্ষে দলীয় সর্বোচ্চ রানের দিক দিয়ে নিজেদের ছাড়িয়ে গেল টাইগাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান তোলে।যা বাংলাদেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। রানের পাহাড় চড়তে নেমে প্রথম ওভারটা ভালোই কাটে সফরকারীদের।

তবে দ্বিতীয় ওভারে বল করতে আসা শফিউল ইসলামের ওভারের শেষ বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরতে হয় অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলরকে। দলীয় মাত্র ১১ রানে ফেরেন টেইলর (১)। এরপর ক্রেইগ আরভিনকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ।

এরপর ইনিংসের ৫ম ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে এলবি’র ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ক্রেইগ আরভিন (৮)। দলীয় সংগ্রহ তখন মাত্র ৩৭, সে সময় আফিফের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে রান আউট হয়ে ফেরেন দারুণ ফর্মে থাকা ওয়েসলি মাধেভেরে (৪)।

এরপর ১২তম ওভারে আফিফ হোসেন বল হাতে এসে তুলে নেন সিকান্দার রাজার (১০) উইকেট। দলীয় ৮৩ রানে রোডেশিয়ানরা হারায় তাদের ৬ষ্ঠ উইকেট। পরের ওভারে বল করতে এসে নিজের টিনোটেন্ডা মুতুমবোদজিকে (২) নিজের তৃতীয় শিকার বানান।

আর তাতেই দলীয় ১০০ রানে ৭ম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপর রিচমন্ড মুতুম্বামিকে (২০) মুস্তাফিজ নিজের ২য় শিকার বানান। এরপর ডোনাল্ড তিরিপানোকে ফিরিয়ে দেন সাইফুদ্দিন।

শেষ ওভারে ওয়াইডের কারনে ৯টি বল করে মোস্তাফিজ। তবে শেষ বলে তুলেন নেন আরেকটি উইকেট। এতে ৪৮ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান করে জিম্বাবুয়ে। এটি টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। আর নিজেদের ইতিহাসে ৪র্থ সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানের জয়।

এর আগে বাংলাদেশ দল গেল বছর চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭৫ রানই ছিল দলীয় সর্বোচ্চ। আর মিরপুর শের-ই-বাংলায় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেই রেকর্ড গড়ল টিম টাইগার্স। লিটন দাস এবং সৌম্য সরকারের অর্ধশতকে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ২০০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। এটি টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের তৃতীয় ২শ দলীয় সংগ্রহ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা করেন টাইগার দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস।

বিধ্বংসী ফর্মে থাকা দুই ওপেনার পাওয়ার প্লেতে তুলে নেন দলীয় অর্ধশতক। আর ব্যাট হাতে ছড়ি ঘোরাতে শুরু করেন জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর। শুরু থেকে মারকুটে ব্যাটিংয়ে অর্ধশতকের দ্বারপ্রান্তে থাকা তামিম ফেরেন ব্যক্তিগত ৪১ রানে। ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ৩ চার এবং ২ ছয়ের তামিমের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। আর ভাঙে লিটন-তামিমের ৯২ রানের জুটি। উইকেটের অপরপ্রান্তে তামিমের থেকেও দুর্দান্ত সময় পার করছেন লিটন দাস।

৪টি চার এবং ৩টি ছয়ে ৩২ বলে তুলে নেন টি-টোয়েন্টিতে নিজের তৃতীয় অর্ধশতক।
অর্ধশতক পূর্ণ হতেই প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটেন লিটন। ব্যক্তিগত ৫৯ রানে ফিরতে হয়ে দলীয় ১০৬ রানে। লিটন ফেরার পর উইকেটে আসেন মুশফিকুর রহিম। সৌম্য সরকারের সঙ্গে বড় জুটির আভাস দিচ্ছিলেন মি. ডিপেন্ডেবল। ব্যাট হাতে মাত্র ৮ বলেই ২ ছক্কায় খেলেন ১৭ রানের ইনিংস। তবে ইনিংসের ১৬তম ওভারে দলীয় ১৪৬ রানে ফেরেন মুশফিক। এই সিরিজ দিয়ে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম।

এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। মি. ডিপেন্ডেবল ফিরলেও ব্যাট হাতে বিধ্বংসী ছিলেন সৌম্য সরকার। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তুলে নেন অর্ধশতক। আর টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান।

শেষ পর্যন্ত সৌম্য সরকার অপরাজিত থাকেন ৩২ বলে ৬২ রানে এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ করেন ১৪ রান। দুর্দান্ত সৌম্য সরকারমাত্র ৩২ বলে ৬২ রান করেই অপরাজতি থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার এবং ৫টি ছয়ের মার। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের হয়ে একটি করে উইকেট নেন সিকান্দার রাজা, মাধেভেরে এবং এমপফু। এর আগে দু’দল আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে সর্বমোট ১১ বার। তার মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ৭ ম্যাচ, জিম্বাবুয়ে ৪টি।

বাংলাদেশ একাদশ: মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মেহেদি হাসান, মুশফিকুর রহিম, শফিউল ইসলাম, আফিফ হোসেন, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান এবং আমিনুল ইসলাম।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: তিনাশি কামুনহুকামুয়ে, ক্রেইগ আরভিন, ব্রেন্ডন টেইলর, সিকান্দার রাজা, শন উইলিয়ামস (অধিনায়ক), ওয়েসলি মাধেভেরে, রিচমন্ড মুতুম্বামি, টিনোটেন্ডা মুতোমবোদজি, ডোনাল্ড তিরিপানো, কার্ল মুম্বা এবং ক্রিস এমপফু।

Print Friendly, PDF & Email