টি-২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা ৫ সাফল্য

ক্রিকেটের দীর্ঘ পরিসরের চেয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ভালো বাংলাদেশ। তবে ওয়ানডের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে সাফল্য বেশি নয়। তবু এ ফরম্যাটে বেশ কিছু স্মরণীয় পারফরম্যান্স রয়েছে টাইগারদের। একনজরে তামিম-মুশফিকদের পাঁচটি সাফল্যে চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক-

২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বড় দলের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির গ্রুপপর্বের ম্যাচে গেইল, স্যামুয়েলস, সারওয়ান, স্মিথ, ব্রাভোদের মুখোমুখি হন টাইগাররা। নিঃসন্দেহে ক্যারিবীয় নামগুলো ভীতি-জাগানিয়া।

তবে সেদিন তাদের পায়ে শেকল পরিয়ে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা। সৈয়দ রাসেলের বলে প্রথম ওভারেই আউট হয়ে যান গেইল। পরে স্মিথের ফিফটি এবং চন্দরপল ও স্যামুয়েলসের ছোট ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে ১৬৪ রান তোলে উইন্ডিজ।

লাল-সবুজ জার্সিধারীদের হয়ে ৪ উইকেট নেন সাকিব। ২ উইকেট ঝুলিতে ভরেন রাজ্জাক। তবে বল হাতে মূল চমক দেখান রাসেল। ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দেন তিনি। জবাবে আফতাবের ৬২ এবং আশরাফুলের ৬১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ৬ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ।

২০১৬ এশিয়া কাপ, বাংলাদেশ-পাকিস্তান: উপমহাদেশের দলগুলোর মধ্যে সবার আগে বাংলাদেশের কাছে টি-টোয়েন্টিতে বশ মানে পাকিস্তান। ওই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গোটা ইনিংসে হাঁসফাঁস করেন মেন ইন গ্রিনরা। তাসকিন, আল-আমিন, মাশরাফির গতিতে উড়ে যান তারা।

পাকিস্তানের হয়ে যা একটু লড়াই করেন সরফরাজ ও শোয়েব। শেষ অবধি দলীয় স্কোর বোর্ডে ১২৯ রান তুলতে পারেন তারা। লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৫ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের উড়ন্ত জয় তুলে নেন টাইগাররা। ব্যাট হাতে আলো ছড়ান সৌম্য। পাক বোলারদের শাসিয়ে তিনি করেন ৪৮ রান।

২০১৮ নিদাহাস ট্রফি, বাংলাদেশ-শ্রীলংকা: টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে দুটি দাপুটে জয় আছে বাংলাদেশের। দুটিই এসেছে ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফিতে। প্রথমটি ছিল গ্রুপপর্বের ম্যাচ। এতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দুই কুশল-পেরেরার ৭৪ এবং মেন্ডিসের ৫৭ রানের ঝড়ে সংগ্রহের পাহাড় গড়েন লংকানরা।

শেষ দিকে ১৫ বলে ৩২ রানের ক্যামিও খেলেন থারাঙ্গা। এ ত্রয়ীর ব্যাটে ২১৪ রানের পাহাড় গড়েন স্বাগতিকরা। জবাব দিতে নেমে মুশফিকের ৭২, তামিমের ৪৭, লিটনের ৪৩ রানের টর্নেডোতে ২ বল হাতে রেখে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় বাংলাদেশ।

নিদাহাস ট্রফি সেমিফাইনাল, বাংলাদেশ-শ্রীলংকা: ফাইনালে উঠতে হলে ম্যাচটা জিততেই হতো। দুদলের সামনে ছিল একই সমীকরণ। প্রথমে ব্যাট করে ১৬০ রান সংগ্রহ করে শ্রীলংকা। টার্গেটে খেলতে নেমে জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। তবে হঠাৎ বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়ার। সেটি ছিল টাইগারদের বিপক্ষে।

ফলে জোরালো প্রতিবাদ করেন অধিনায়ক সাকিব। রাগ সামলাতে না পেরে মাহমুদউল্লাহ ও রুবেলকে ক্রিজ ছেড়ে মাঠের বাইরে চলে আসতে বলেন তিনি। দুদল ও আম্পায়ারদের সমঝোতায় অবশেষে খেলা গড়ায়। টান টান উত্তেজনার ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ দিকে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৬ রান। অন্তিম মুহূর্তে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দেন মাহমুদউল্লাহ।

২০১৯ বাংলাদেশ-ভারত: ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাত্র ১ রানে ভারতের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে তীরে এসে তরী ডুবিয়েছিলেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। সেই দুঃসহ যাতনার স্মৃতি এখনও তরতাজা। তবে এবার আর ভুল করেননি তারা। গেল নভেম্বরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ধাওয়ানের ৪১ও প্যান্টের ২৭ রানে প্রথমে ব্যাট করে ১৪৮ রান করে স্বাগতিক টিম ইন্ডিয়া।

জবাবে নাঈমের ২৬ ও সৌম্যর ৩৯ রানের কার্যকরী ইনিংসে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছেন সফরকারীরা। বাকি কাজটা সারেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। অবশ্য মূল নায়ক ছিলেন মুশি। ৪৩ বলে ৬০ রানের ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলেন তিনি। ফিনিশিং টাচ দেন মাহমুদউল্লাহ। ৭ বলে ১৫ রানের ক্যামিও খেলেন তিনি। টাইগাররা ভারতের মাটিতে জয় ছিনিয়ে নেয় ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে।

Print Friendly, PDF & Email