লক্ষ্মীপুর আ’লীগের শৃঙ্খলা ফিরাতে চান অ্যাডভোকেট জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক :

একটি দল পরিচালিত হয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। সে অনুসারে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জনবিচ্ছিন্ন আঙ্খা দিয়ে সেই প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচন করেছেন যুবলীগ নেতা। আটঘাঁট বেঁধে প্রচারণা চালিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা কর্মীদের নিয়ে। এসব বিষয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি আওয়ামী লীগ। ফলে নিজ দলীয় কর্মীর (স্বতন্ত্র প্রার্থী) কাছে হেরে যায় নৌকা। সারাদেশে যখনই নৌকার জয়ধ্বনি, ঠিক তখনি উল্টো হয়েছিলো লক্ষ্মীপুরে। জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সহযোগি সংগঠনগুলো ও সাধারণ ভোটারদের দুরত্বের কারনে এমনটি হয়েছে বলে মনে করছেন অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন (পি.পি)। প্রতিবেদককে কথাগুলো জানিয়েছেন তিনি।

জসিম উদ্দিন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাসন্দী গ্রামের মরহুম আলী আজ্জম মিয়ার ছেলে। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। চৌমুহনী এস.এ কলেজ সহ-সভাপতি ও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নোয়াখালি জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড় বিষয়ক সম্পাদক হিসাবেও। লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) হিসাবে রয়েছেন ২০০৯ সাল থেকেই। জসিম উদ্দিন আগামী সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকার যখন, আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ঠিক তখনি তিনি আইনি সেবা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন দলীয় কর্মীদের। মুক্ত করেছেন বানোয়াট ও উদ্ভট অভিযোগগুলো থেকে। যদিও বর্তমানের অনেক বড় বড় নেতা বাঁচার জন্য তখন ছিলেন লোকচক্ষুর আড়ালে। আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) হওয়ায় সে কাজটি তিনি এখনও অব্যহত রেখেছেন। তিনি দলীয় সমর্থন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তুলে ধরেছেন সাধারণ জনগণের মাঝে। অসহায় ও দুস্থদের সেবা করার পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করছেন নিজ অর্থায়নে।

গত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গোলাম ফারুক পিংকু ও নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের হাতে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। ওই সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী থাকায় জসিমকে রাখা হয়নি গুরুত্বপূর্ন কোন পদে। সদস্য পদ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর এই সৈনিককে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দলের চেয়েও নিজেদের সম্প্রসারণে বেশি ব্যস্ত ছিলেন বর্তমান কমিটি। বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠন ও নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের নামে দেদারছে করেছেন বাণিজ্য। এজন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন অ্যাডভোকেট জসিম। তাছাড়া সভাপতি ও সম্পাদক নিজ বাসার ছোট্ট একটি কক্ষে দুই-একটি ‘দায়সারা প্রোগ্রাম’ করেছেন। এতে জেলা আওয়ামী লীগ কিছুটা ইমেজ সংকটে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আর এ সুযোগটি হাতছাড়া না করে জেলাজুড়ে সক্রিয় হয়েছেন বিএনপি-জামায়াত।

অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নেতার ভালো কাজে কর্মীরা যেমন উৎসাহিত হন, তেমনিভাবে খারাপেও। বর্তমান জেলা কমিটি দল পরিচালনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা করছে না। এতে নষ্ট হচ্ছে দলীয় শৃঙ্খলা। যার প্রভাব পড়েছে সহযোগি সংগঠনগুলোতে। দুরত্ব তৈরি হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে। অথচ সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধতা দলের জন্য বিরাট শক্তি। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে প্রথমেই এ কাজটি করবেন তিনি। এছাড়া আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে বিতর্কিতদের দলের কোন পর্যায়েই ঠাঁয় দিবেন না। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবেন দুর্দিনে দলের পাশে থাকা কর্মীদের। দল পরিচালনা করবেন শেখ হাসিনা ও গঠনতন্ত্র অনুসারে। তাছাড়া সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের স্থায়ী কার্যালয় সহ অন্যান্য সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করবেন বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email