লক্ষ্মীপুরে অছাত্র হয়েও ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুর পৌর ছাত্রলীগের ৩ মাসের আহ্বায়ক কমিটি প্রায় এক বছর ৩ মাস হয়ে গেলো। নেই কোন অগ্রগতি, নেই সম্মেলন, নেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি। তাহলে কি ছাত্রলীগে ছাত্রের অভাব পড়েছে। এক বছর ৩ মাসেও সম্মেলন করা যায়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করাতো দূরের কথা, দুঃখজনক হলেও সত্য স্বয়ং আহ্বায়ক আব্দুল খালেক নিজেই অছাত্র ও বয়সও ৩১। ছাত্রলীগের নেতৃত্বে বা ছাত্রলীগ করার যোগ্যতাও নেই তার। এছাড়া আহ্বায়ক আব্দুল খালেক সাংগঠনিক কার্যক্রমে না থাকলেও বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও জামায়াত-শিবির প্রীতির কমতি নেই। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগের পাহাড়।

এবিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের ৯ জন নেতা কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বরাবরে একটি অভিযোগও দাখিল করেছে।

অভিযোগে উল্ল্যেখ করা হয়, লক্ষ্মীপুর পৌর ছাত্রলীগের এ আহ্বায়ক কমিটি গঠনতন্ত্র বিরোধী এবং জামায়াত-শিবির-ছাত্রদল ও প্রশাসনের তালিকাভূক্ত অপরাধী। আব্দুল খালেক পৌর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হওয়ার আগেই ছাত্রলীগের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে ছাত্রলীগ কর্মী বা নেতা হওয়ার সর্বোচ্চ বয়স হলো ২৯ বৎসর। আব্দুল খালেকের বয়স বর্তমানে ৩২ বৎসর।

জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আশরাফুল আলম জানান, লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগ এখন নেতৃত্ব শূণ্যতায় ভুগছে। সব পৌর, উপজেলা ও শাখা গুলোতে তাদের আস্থাভাজন কমিটি করা করেছে। যার কারণে তারা আস্থা অর্জনেই ব্যস্ত, সাংগঠনিক কার্যক্রম করবে কিভাবে।

উল্লেখ্য, জেলা শহরের ছাত্রলীগের কমিটির সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী থাকার কথা থাকলেও অযোগ্য, অদক্ষ এবং বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত আব্দুল খালেকের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে শহর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অবস্থা।

জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাঈনউদ্দিন ইফতি জানান, আব্দুল খালেক শহর ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার কোন যোগ্যতা রাখে না। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। আমরা লক্ষ্মীপুর পৌর কমিটিসহ বিভিন্ন উপজেলা কমিটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কমিটির বরাবরে অভিযোগ দিয়েছি। এ ব্যাপারে আশা করছি কেন্দ্রীয় কমিটি দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

এবিষয়ে আব্দুল খালেক কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

Print Friendly, PDF & Email