গোপনে জিকে শামীমের জামিন, যা বলছে রাষ্ট্রপক্ষ

গেল বছর ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতনের নিজ কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অর্থসহ গ্রেফতার হন  যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ও বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীম। তাকে অস্ত্র মামলায় ছয় মাসের জামিনের বিষয়ে কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুর রহমান খান।

শনিবার (৭ মার্চ) গণমাধ্যমকে একথা বলেন তিনি। অত্যন্ত গোপনীয়তায় ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন নেন জিকে শামীম। তার জামিনের লিখিত আদেশ প্রকাশিত হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। জামিনের কাগজের একটি কপি সংগ্রহ করেছে গণমাধ্যম।

এ বিষয়ে ফজলুর রহমান খান মুঠোফোনে বলেন, জিকে শামীমের অন্য মামলা নিয়ে গিয়েছিলো, ক্যাসিনোর এবং আরো কিছু মামলা নিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু অস্ত্র মামলার কথা আমার তো জানা নেই। আমি তো কোর্টে থাকি সারাদিন। আপনারা বলেন যে, শুনতেছি কিন্তু আমার জানা মতে জিকে শামীমের কোন মামলার বেল হয়নি। এটা আমার দেখতে হবে। কালকে (রোববার) পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করেন।

এদিকে, জামিনের কাগজ পাওয়ার বিষয়ে উল্লেখ করলে তিনি বলেন, আমাকে একটু কনফার্ম হতে হবে। জজ সাহেব নিজের মতো করে দিয়েছি কিনা, সেটা আমার দেখতে হবে। ক্যাসিনোর কেসগুলো আমরা অপোজ করি বেশি করে। এখানে ভুয়া জামিনও তো বহু হয়েছে। আমি নিজে ধরেছি। জিকে শামীমের মামলার শুনানির সময় এই কথা ওঠেইনি যে জামিন হবে। এখন যদি জিকে শামীমের জায়গায় অন্য শামীম হয়, হইতে পারে। আমার তো কোর্টে গিয়ে কনফার্ম হতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুর রহমান খান আরো জানান, তিনি জামিনের বিষয়ে কিছুই জানেন না। রোববার খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।

গেল বছর ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতনের নিজ কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অর্থসহ গ্রেফতার করা হয় তাকে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, অর্থপাচার ও মাদক মামলা রয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর জিকে শামীমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে নিজ ব্যবসায়িক কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ওই অভিযানে তার সাত দেহরক্ষীকেও গ্রেফতার করা হয়। এ সময় নগদ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজপত্র, তার একটি আগ্নেয়াস্ত্র, দেহরক্ষীদের সাতটি শটগান-গুলি এবং কয়েক বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, অর্থপাচার ও মাদক মামলা করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email