এক ছবিতে দুই জয়া!

বাংলাদেশ এবং কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। নিজের অভিনয় দিয়ে শুধু বাংলাদেশের মানুষের মন জয় করেছেন এমন নয়, কলকাতাতেও রয়েছে তার ভক্ত দল। কলকাতায় সৃজিত মুখার্জি, অরিন্দম শীল থেকে শুরু করে অতনু ঘোষ, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। কলকাতার আবির চট্টোপাধ্যায় থেকে প্রসেনজিৎ-সবার সঙ্গেই জুটি বেধেছেন জয়া।

 

তবে শুধু কলকাতা নয় বাংলাদেশের মাটিতেও রয়েছে তার সুখ্যাতি। সম্প্রতি জয়া তার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে একটি ফটোশুটের ছবি শেয়ার করেছেন। যেখানে জয়ার পাশে বসে রয়েছেন এক মেয়ে। যাকে হুবহু জয়ার মতোই দেখতে।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই জানতে চাচ্ছেন কে এই সুন্দরী, যাকে একেবারে জয়ার মতোই দেখতে। ইনি আর কেউ নন, জয়ার বড় বোন কান্তা করিম। তবে দুই বোনের মুখের এতটা মিল দেখে নেট দুনিয়ায় সকলে অবাক। জয়ার বোন পেশায় অভিনেত্রী না হয়েও অভিনয়ের প্রতি তার ঝোঁক রয়েছে। দুই বোনকে একসঙ্গে পর্দায় দেখতে চান অনেকেই।

 

দুই বাংলার আলোচিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। ইদানীং বাংলাদেশের চেয়ে কলকাতার সিনেমা নিয়েই বেশি ব্যস্ততা।

 

জয়া আহসানের দুর্দান্ত অভিনয়ের স্বাক্ষর দেখা গেছে নাটকে। বিটিভির ‘এনেছি সূর্যের হাসি’ থেকে শুরু করে ‘শঙ্খবাস’, ‘লাবণ্যপ্রভা’ কিংবা ‘চৈতা পাগল’ অথবা ‘তারপরেও আঙুরলতা নন্দকে ভালোবাসে’-যেখানেই জয়া আহসান অভিনয় করেছেন, প্রত্যেক জায়গাতেই তার অভিনয় প্রতিভায় মুগ্ধ হয়েছে সবাই। শূন্য থেকে উঠে এসে দারুণ সব অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছেন। এত সব মেধার ভিড়েও নিজেকে আড়াল হয়ে যেতে দেননি, বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, এ প্রজন্মের সবচেয়ে মেধাবী অভিনেত্রী তিনিই।

 

চলচ্চিত্রের বিশাল পটভূমিতে জয়ার আগমন মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ব্যাচেলর দিয়ে। খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ রোলে ছিলেন না। ততদিনে টিভি পর্দায় প্রায় নিয়মিত তিনি। ধারাবাহিক নাটক করছেন, এক ঘণ্টার নাটকেও দেখা যায় তাকে। বেছে বেছে কাজ করার স্বভাবটা তার অনেক পুরনো। এ কারণে ক্যারিয়ারে বাজে কাজ খুব একটা নেই জয়ার। মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারের আসরে তখন প্রতিবছর দেখা মেলে তার, জয়ার দারুণ অভিনয় নিয়ে আলোচনা হয় নাট্যজগতের মানুষজনের মধ্যে। তিনি পুরস্কার বগলদাবা করে নিয়ে যান ঘরে।

 

তবে জয়া আহসান নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত ‘গেরিলা’ সিনেমায়। এর মাঝে ‘ডুবসাঁতার’ আর ‘ফিরে এসো বেহুলা’ নামের দুটি সিনেমায় দেখা গিয়েছিল তাকে। কিন্তু মূল ধারার সিনেমা না হওয়ায় সাড়া ফেলতে পারেনি সেগুলো। ২০১১ সালে গেরিলায় কাজ করে সবটুকু আলো নিজের দিকে টেনে নিয়েছিলেন জয়া। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘরে তুলেছিলেন তিনি সেই সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয় করে। বিলকিস বানু চরিত্রে সেই প্রতিবাদী গৃহবধূকে যারা দেখেছেন, তাদের ভোলার কথা নয় মোটেও।

 

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়া আহসান আরো দুবার জিতেছেন চোরাবালি আর জিরো ডিগ্রি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। ২০১৩ সালে কলকাতার বিখ্যাত পরিচালক অরিন্দম শীল তার ‘আবর্ত’ সিনেমায় নিয়েছিলেন জয়াকে, এরপর থেকে নিয়মিত সেখানে কাজ করছেন এই গুণী শিল্পী। পর্দায় দারুণ অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে অন্য পরিচালকরাও সিনেমা অফার করছেন জয়া আহসানকে। এর মধ্যেই সৃজিত মুখার্জি, ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী, কৌশিক গাঙ্গুলীর মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে জয়ার, অরিন্দমের সঙ্গে তো একাধিক সিনেমায় কাজ করেছেন।

 

কলকাতার শীর্ষ ১০ অভিনেত্রীর তালিকায়ও জয়ার অবস্থান একদম ওপরের দিকে। জয়া আহসান কলকাতায় মজে গেছেন বা বাংলাদেশের সিনেমায় একদমই কাজ করছেন না, ব্যাপারটা মোটেও তা নয়।

 

শিল্পী জয়ার সবচেয়ে বড় গুণ যেটা, সেটা হচ্ছে সাহস। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন তিনি, নিজেকে ভাঙছেন, গড়ছেন, প্রতিটি সিনেমায় নতুন অবতারে হাজির হচ্ছেন দর্শকের সামনে।

Print Friendly, PDF & Email