অধিনায়ক হিসেবে সফলতার শীর্ষে মাশরাফি

অবশেষে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচটিই অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচ খেলবেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেটিই হতে যাচ্ছে অধিনায়ক হিসেবে তার শেষ ম্যাচ।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে দুপুরে মাশরাফি একথা জানান।

এ সময় তিনি বলেন, সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। বিসিবি ও টিম ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাই। হাথুরুসিংহে, খালেদ মাহমুদ সুজন, রোডস ও ডমিঙ্গোকে ধন্যবাদ। সবার সহযোগিতা ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব হতো না।

এছাড়া সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে পরবর্তী অধিনায়ককে সাহায্য করবেন বলেও জানান ম্যাশ। এ সময় ক্রিকেটার না হলে কি হতেন এমন প্রশ্নে মাশরাফি হাসতে হাসতে বলেন, ক্রিকেটার না হলে হয়তো মাছের ব্যবসা করতাম। কেননা পারিবারিক ভাবে আমাদের মাছের ব্যবসা রয়েছে।

পরবর্তী অধিনায়কের জন্য শুভকামনা জানিয়ে ম্যাশ বলেন, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাচ্ছি, অবসরে যাচ্ছি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেটি আমার অধিনায়ক হিসাবে শেষ ম্যাচ। খেলোয়াড় হিসাবে আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো আমার সেরাটা দেবার, যদি সুযোগ আসে আমার। আমার শুভকামনা থাকবে পরবর্তী অধিনায়কের জন্য। আমার বিশ্বাস সে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নেক্সট ধাপে নিয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ। আমি যদি দলে সুযোগ পাই আমি চেষ্টা করবো আমার যে এক্সপেরিয়েন্স রয়েছে, আমার সেরাটা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করার।

এদিকে, অধিনায়কত্ব ছাড়া বিষয়ে মাশরাফি বলেন, কাল অধিনায়ক হিশেবে আমার শেষ ম্যাচ। আমার প্রতি এতো দীর্ঘসময় আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ। ধন্যবাদ জানাই আমার নেতৃত্বে যারা খেলেছে বাংলাদেশ দলে তাদেরকে। আমি নিশ্চিত যে গত ৫-৬ বছরের এই যাত্রা সহজ ছিল না। টিম ম্যানেজমেন্ট যারা ছিল, যাদের অধীনে আমি খেলেছি বা আমি অধিনায়কত্ব করেছি, তাঁরা সবাই আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে। আমি এর আগে দুই-তিন দফা অধিনায়কত্ব পেয়েছি। কিন্তু ইনজুরির কারণে করতে পারিনি। আমার অধিনায়কত্ব হাথুরুসিংহের সময় শুরু হয়েছে পরে।’

তিনি আরো বলেন, হাথুরুসিংহে, খালেদ মাহমুদ, স্টিভ রোডস এবং আমার মনে হয় ডমিঙ্গো দিয়ে শেষ হচ্ছে। ক্রিকেট বোর্ডের স্টাফ থেকে শুরু করে যারা আছেন, তাদের ধন্যবাদ সহযোগিতার জন্য। আমি মিডিয়ার সবাইকে ধন্যবাদ জানাই সহযোগিতা করার জন্য। সব শেষে বাংলাদেশের সমর্থক, ভক্তদের আমি ধন্যবাদ জানাই।’

ওয়ানডে সফল অধিনায়ক বলেন,  আমি আনুষ্ঠানিকভাবে কালকের ম্যাচের মাধ্যমে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি আমার শেষ ম্যাচ অধিনায়ক হিশেবে। আমি চেষ্টা করব আমার সেরাটা দেয়ার, যদি আমার সুযোগ আসে। আমার শুভকামনা থাকবে পরবর্তীতে যে অধিনায়ক হবে তাঁর জন্য। বাংলাদেশ পরের ধাপে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এদিকে, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি। তার অধীনে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের পাশাপাশি ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে ২০১৯ বিশ্বকাপে মাত্র তিনটি ম্যাচ জিতে মাশরাফি বাহিনী। ২০১০ সালে দলের গুরুদায়িত্ব বুঝে পেয়েছিলেন ম্যাশ। কিন্তু হাঁটুর ইনজুরির কারণে ঠিকভাবে পারেননি সেই দায়িত্বে মনোনিবেশ করতে।

এরপর ২০১৪ সালে ফের পুরোদমে টাইগারদের দায়িত্ব বুঝে নেন টাইগার এই দলপতি।  এখন পর্যন্ত ৮৭ ম্যাচে টাইগারদের নেতৃত্ব দিয়েছেন ম্যাশ। নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশকে দুইটি বিশ্বকাপে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটিও তার। ৮৭ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে জয় পেয়েছেন ৪৯টি ম্যাচে। শুক্রবার (৬ মার্চ) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের হাফসেঞ্চুরির অপেক্ষায় টাইগার এই দলপতি। এই ম্যাচে জিতলে অধিনায়ক হিসেবে ৫০টি ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়বেন মাশরাফি।

২০১৪ থেকে দলের নিয়মিত অধিনায়ক হয়ে ৮০টি একদিনের ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছেন ৪৬টি ম্যাচ। তবে মোট ৮৭ ম্যাচে তার নেতৃত্বে সর্বোচ্চ ৪৯টি ওয়ানডে ম্যাচে জয় পায় বাংলাদেশ। ডান-হাতি পেসারের নেতৃত্বে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ।  এরপর ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জায়গা করে নেয় সেমি-ফাইনালে। মাশরাফির নেতৃত্বেই ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডে সিরিজে হারায় টাইগাররা।

আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সফল ওয়ানডে অধিনায়ক (জয়ের সংখ্যা হিসাবে)-

মাশরাফি বিন মর্তুজা- ৮৭ ম্যাচে ৪৯ জয়

হাবিবুল বাশার- ৬৯ ম্যাচে ২৯ জয়

সাকিব আল হাসান- ৫০ ম্যাচে ২৩ জয়

মুশফিকুর রহিম- ৩৭ ম্যাচে ১১ জয়

মোহাম্মদ আশরাফুল- ৩৮ ম্যাচে ৮ জয়।

এছাড়া অধিনায়ক হিসাবে এখন অব্দি মাশরাফি বিন মর্তুজা ৮৭ ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন মোট ১০১ টি। ওয়ানডে ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসাবে মাশরাফির চেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন কেবল ৩ জন।

অধিনায়ক হিসাবে ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি উইকেট-

১৫৮- ওয়াসিম আকরাম (পাকিস্তান)

১৩৪- শন পোলক (দক্ষিণ আফ্রিকা/ আইসিসি একাদশ/ আফ্রিকা একাদশ)

১৩১- ইমরান খান (পাকিস্তান)

১০১- জেসন হোল্ডার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মাশরাফি বিন মর্তুজা (বাংলাদেশ)

৯৭- ওয়াকার ইউনুস (পাকিস্তান)।

Print Friendly, PDF & Email