মুখোশের পর এবার শিক্ষা ভবনের টিস্যুবক্সে বঙ্গবন্ধুর লোগো

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের মুখোশ পরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে শিক্ষার্থী অভ্যর্থনা জানানো ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কতিপয় শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। এবার তারা বঙ্গবন্ধুর ছবি ছেপে দিয়েছে হাত মুখ মোছার টিস্যু বক্সে। এই টিস্যু পেপারগুলো ব্যবহার করবেন শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) সহ সব পরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, সাত-আটমাস আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাদের লোগো ব্যবহার করে এক হাজার টিস্যু বক্স তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেভাবেই এসএমএস টেকনলোজিস নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু শিক্ষা অধিদপ্তরের দুইজন উপপরিচালক টিস্যুবক্সে অধিদপ্তরের লোগোর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ছবিও জুড়ে দেয়। প্রতিটি টিস্যু বক্সের দাম ধরা হয়েছে ৫৬ টাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত এই এক হাজার প্রশ্নবিদ্ধ টিস্যু বক্স এখন শিক্ষা ভবনের মূল ভবনের নীচ তলার স্টোর রুমে রাখা হয়েছে।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে অংশ নেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সকালে শিক্ষামন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতির মুখোশ পরে শিক্ষামন্ত্রীকে স্বাগত জানান। যার প্রতিবাদ করেননি শিক্ষামন্ত্রী। এনিয়ে গত ২ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ সভায় ডা. দীপু মনির ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর মুজিববর্ষে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির ছবি ছাপানো টিস্যুবক্স কর্মকর্তাদের টেবিলে-টেবিলে দেয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও আছে প্রশ্ন।

জানা যায়, টিস্যু বক্সে শুধু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের লোগো ব্যবহারের লিখিত নির্দেশনা থাকলেও তাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি জুড়ে দেয়ার আইডিয়া দুইজন উপ-পরিচালকের। জামাতপন্থী এই দুই অতিউৎসাহী কর্মকর্তাই টিস্যু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে টিস্যুবক্সে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্তারাও এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এব্যাপারে মাউশির মহাপরিচালকের চলতি দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ফারুককে ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি। তাঁর অফিস থেকে জানানো হয় তিনি ঢাকার বাইরে গেছেন।

এর আগে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ডিসেম্বর আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে স্বাধীনতার ছেচল্লিশতম বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সামনে একটি কেক রাখা হয়। যা বানানো হয় জাতীয় পতাকার আদলে। জাতীয় পতাকার ওপর ছুড়ি চালাতে পারবেন না বলে কেক না কেটে সেই স্থান ত্যাগ করেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। সেই সময় এই ঘটনা নিয়েও হয়েছিল হৈচৈ। সেই কেকের আইডিয়াও ছিলো জামাত-বিএনপিপন্থী দুইজন কর্মকর্তার। তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও নাহিদের সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email