লক্ষ্মীপুরে কেন্দ্রীয় নেতার উপস্থিতিতেও যুবদলের পৃথক কর্মী সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতেও লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদল পৃথক কর্মী সভা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারী) দিনব্যাপী জেলা যুবদলের সভাপতি রেজাউল করিম লিটনের নেতৃত্বে দলের একাংশের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয় শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। এসময় খাবার নিয়ে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে। অপরদিকে জেলা যুবদলের যুগ্ন সম্পাদক একেএম ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে শহরের কলেজ রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের পৃথক কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হওয়ায় মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝেও দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে সভা দুটি ছেড়ে চলে যেতেও দেখা যায়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মূলত জেলা বিএনপির নেতাদের মাঝে দীর্ঘদিন পদ ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বেকে কেন্দ্র করে গ্রুপিং চলে আসছে। এতে একপক্ষের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও স্থানীয় সাবেক সাংসদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের। অপর অংশের নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান হাছিব। এ দ্বন্দ্ব এক পর্যায়ে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন কর্মসুচি পৃথকভাবেই পালন করা হয়ে থাকে। তাই নিজের ঘাটিতেই বিএনপি আজ নিস্ক্রিয় বলে জানান বিশ্লেষকরা।

জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটনের সভাপতিত্বে কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ইউসুফ বিন জলিল কালু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাহেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিনার, মাজহারুল ইসলাম তিতাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান জামান, মঞ্জুরুল আজিম সুমন ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল ইসলাম লিংকন।

কর্মী সভায় কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ইউসুফ বিন জলিল কালু তার বক্তব্যে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। আন্দোলন করতে হলে দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে এখনো সময় আছে সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।’

অপরদিকে জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক একেএম ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে বিএনপি কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভা করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়ার অনুসারী যুবদলের অপরাংশের নেতাকর্মীরা। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম শাহিন, যুবদল নেতা শফিকুল আলম আলমাছ, এমরান হোসেন প্রমুখ।

এদিকে সভা শেষে খাবার নিয়ে শহরের হাজি বিরিয়ানি হাউজের ম্যানেজার ইউসুফ হোসেনকে মারধর করেছে যুবদলের নেতাকর্মীরা। তবে সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি মাউন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ বলছেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে হাতাহাতি হয়েছে।

তবে মারধরের শিকার হাজি বিরিয়ানীর ম্যানেজার ইউসুফ হোসেন জানান, সকাল থেকে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভা করে যুবদল নেতাকর্মীরা। হাজি বিরিয়ানী থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়। একপর্যায়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন চৌধুরী রিয়াজ খাবার দেয়া বন্ধ রাখার জন্য বলেন। খাবার বন্ধ রাখলে যুবদল নেতা পারভেজের নেতৃত্বে আমাকে মারধর করে আহত করে।

Print Friendly, PDF & Email