ইঞ্জিনিয়ার গড়ার কারখানা লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

মাহবুবুর রহমান হাসিব :

লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট কারিগরি ও বৃত্তিমূলক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে পড়ালেখা করে হাজারও ছেলে-মেয়ে আজ প্রতিষ্ঠিত ইঞ্জিনিয়ার। যারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সেক্টরে নিয়োজিত থেকে প্রকৌশল কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

২০০৬ সালে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাইশমারা এলাকায় প্রায় ৩ একর জমির উপর লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এটি লক্ষ্মীপুর জেলার সবচেয়ে বড় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনস্থ এই প্রতিষ্ঠানে পাঁচটি বিভাগে ৪ বছর মেয়াদী ‘ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স’ শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।

বিভাগ গুলো হচ্ছে- সিভিল টেকনোলোজি, ইলেকট্রনিক্স টেকনোলোজি, ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলোজি, কম্পিউটার টেকনোলোজি এবং আর্কিটেকচার অ্যান্ড ইনটোরিয়র ডিজাইন টেকনোলোজি।

ইতোমধ্যে সিভিল, কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক্স, আর্কিটেকচার এন্ড ইনটোরিয়র ডিজাইন টেকনোলোজি বিভাগের ১০টি ব্যাচ কোর্স সম্পন্ন করেছে। ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলোজি এর ১ম ব্যাচ অধ্যয়নরত আছে।

বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে দুই শিফটে প্রায় ১ হাজার ৮শ’ ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। ২৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে ২২ জন কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন।

এছাড়াও রয়েছে- পাঁচ তলা বিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক ভবন, একটি একাডেমিক ভবন, দুই তলা বিশিষ্ট দুটি ভবন, ২৩টি গবেষণাগার, অধ্যক্ষ বাসভবন, দুই তলা স্টাফ কোয়ার্টার, একটি শহীদ মিনার, একটি সাব স্টেশন এবং একটি পাম্প হাউজ।

লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের প্রধান ফটক

প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের সরকারি পলিটেকনিক গুলোতে একযোগে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে। এসএসসি পরীক্ষার প্রাপ্ত জিপিএ অনুযায়ী ফল প্রণীত হয়। অনলাইনে ভর্তি ফর্ম পূরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিভাগ ও পলিটেকনিক পছন্দের সুযোগ থাকে। মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে বিভাগ ও ইন্সটিটিউট নির্বাচন করা হয়।

এভাবে প্রতি বছর লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে প্রথম ও দ্বিতীয় শিফটে বিভিন্ন বিভাগে নির্ধারিত আসন সংখ্যা অনুযায়ী ৬শ’ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়।

লক্ষ্মীপুর জেলা শহর থেকে ২ কিলোমিটার পূর্বে বাইশমারা এলাকায় লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট অবস্থিত। জেলা শহর এবং ঝুমুর ইলিশ চত্বর থেকে অটোরিক্সায় যাতায়াত করা যায়।

দেশে দিন দিন বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেকারত্বের বোঝায় নুইয়ে পড়ছে এদেশের অর্থনীতি। বেকারত্ব দেশ ও জাতির জন্য অভিশাপ স্বরূপ। এই বোঝা থেকে মুক্তির জন্য এসকল কারিগরি প্রতিষ্ঠান সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এখান থেকে একজন শিক্ষার্থী হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।

কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হবার ফলে তারা নিজেই নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। এখানে কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা প্রদান করা হয়। এতে একজন শিক্ষার্থী উভয় শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে।

স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নের জন্য নিযুক্ত আছেন অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দীন এবং একাডেমিক ইনচার্জ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

শীর্ষ সংবাদ/আপ্র

Print Friendly, PDF & Email