‘ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে খুন করা হলো, আমাকে পাওয়া যাবে রেললাইনে’

রাজধানীর দক্ষিণখানে দুই শিশুসহ মায়ের উদ্ধার হওয়া লাশ নিয়ে সৃষ্ট জট খুলতে শুরু করেছে। পাঁচতলা ওই বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্লাট থেকে উদ্ধার করা ব্যবসায়ী রকিব উদ্দীনের একটি ডায়েরি থেকে মেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা। সেখানে লেখা আছে, ‘ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে খুন করা হলো, আমাকে পাওয়া যাবে রেললাইনে’।

পুলিশ ও স্বজনদের ধারণা, বিপুল অংকের ঋণের কারণে হতাশা থেকেই হয়তো এ হত্যাকাণ্ডে ঘটিয়ে থাকতে পারেন রকিব উদ্দিন ভূঁইয়া। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার পর তিনি নিজেই হয়তো ডায়েরিতে এসব লিখে পালিয়ে গেছেন। ঘটনার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ডায়েরির লেখাটি রকিব উদ্দিনের হাতের কিনা, তা নিশ্চিত হতে সিআইডির হস্তরেখাবিদদের সহায়তা নেবে পুলিশ। আর তদন্তের অংশ হিসেবে ডায়েরিটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণখান থানায় মামলা করেছেন নিহত ওই নারীর ভাই মুন্না রহমান। মামলায় আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে সন্দেহের তীর ছুড়ে দেওয়া হয়েছে ভগ্নিপতি রকিবের দিকে।

গত শুক্রবার রাজধানীর দক্ষিণখান থানার কেসি স্কুলের পেছনে প্রেমবাগান এলাকার একটি বাড়ির বাড়ির চতুর্থ তলা থেকে রাকিব উদ্দিন ভূঁইয়া নামে টিঅ্যান্ডটি বোর্ডের এক সহকারী প্রকৌশলীর দুই শিশু সন্তান ছেলে ফারহান উদ্দিন খান (১২), মেয়ে লাইভী ভূঁইয়া (৩) এবং স্ত্রী মুন্নী বেগমের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মুন্নির মাথায় আঘাত করে এবং তার দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মুন্নির লাশের পাশে একটি হাতুড়ি পাওয়া গেছে, যা জব্দ করেছে পুলিশ। এখন ওই ভবনের চারটি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।

অন্যদিকে শনিবার বিকেলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে মুন্নি, ফারহান ও লাইবার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে রাতে তাদের বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কিনা অথবা তিন জনকে হত্যার পর রকিবকে কেউ অপহরণ করেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রকিবকে ফাঁসাতে কেউ ডায়েরিতে এসব কথা লিখেছে কিনা, সেই বিষয়ও সন্দেহে রেখে চলছে তদন্ত।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আত্মীয় স্বজনরা জানিয়েছে রকিব উদ্দিন ঋণগ্রস্ত ছিলেন। বড় অঙ্কের ঋণ। এ কারণেই হতাশায় তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করেছেন বলে তাদের ধারণা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন জানান প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, রকিব উদ্দিন এ খুনের সঙ্গে জড়িত। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

Print Friendly, PDF & Email