লক্ষ্মীপুরে ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর হামলা : সেই জামাল কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরে খেলাপি ঋন আদায় করতে গিয়ে আমার বাড়ী আমার খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তা আলী আহম্মদ হামলার শিকার হয়েছে।

বুধবার (১২ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সাথে জড়িত সদর উপজেলা কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) জামাল হোসেনকে ওই দিন রাতে আটক করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ফেব্রুয়ারি) চন্দ্রগন্জ থানার হামলার শিকার আলী আহম্মদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আটক জামালকে গ্রেফতার দেখিয়ে লক্ষ্মীপুর আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন না মন্জুর করে জেলহাজতে পাঠায়।

এ মামলায় আরো ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী দেখানো হয়েছে। হামলায় আহত আলী আহাম্মদ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা দক্ষিণ মান্দারী গ্রামের মৃত বদর আলমের ছেলে।

সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলা কুশাখালী ইউনিয়ন নলডগি গ্রামের একটি বাড়ী একটি খামার সমিতি থেকে ১০ নভেম্বর ২০১৭ইং তারিখে ওই মেম্বারের মা মানিক জান বানু ও তার ভাতিজা আরিফুর রহমান ২০ হাজার টাকা করে ঋন নেয়। ঋন নেওয়া টাকা পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষ বারবার তাদেরকে তাগিত দেওয়ার পরও এ ঋন পরিশোধের কোন আগ্রহ না থাকায় ঘটনার দিন বিকেলে খেলাপি ঋন আদায়ের জন্য সহকর্মীদের নিয়ে আলী আহম্মদ নলডগি এলাকায় যায়।

এ সময় ওই দুই ঋন খেলাপির অভিভাবক স্হানীয় ইউপি সদস্য জামাল কে ঋন পরিশোধের জন্য অবহিত করেন।এতে মেম্বার জামাল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে জামালের নেতৃত্বে তার সঙ্গপাঙ্গরা ব্যাংক কর্মকর্তা আলী আহম্মদের উপর অর্তকৃত হামলা চালিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে মারাক্তক জখম করে হামলাকারীরা কর্মকর্তাদের শাসিয়ে বলে ভবিষৎতে ওই এলাকায় ঋন উত্তোলন করতে গেলে তাদেরকে খুন গুম করা হবে বলে হুসিয়ার করে দেন। পরে আলী আহম্মদকে তার সহকর্মী ও স্হানীয়রা উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মেম্বার জামালকে গ্রেফতার করে। ওই মেম্বার জামালের পরিবারের বিরুদ্বে খুন, জখম, নির্যাতন, নারী কেলেংকারী, মানুষের জায়গা- জমি জবর দখলসহ নানান অভিযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্হানীয়রা।

এই সন্রাসীদের অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এরা পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা সমন্বয়কারী ও প্রতিষ্ঠানটির শাখা ব্যাবস্হাপক মুহাম্মদ সোলায়মান সাংবাদিকদের বলেন, খেলাপি ঋন আদায়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।সরকারী টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জামাল মেম্বারের মা ও ভাতিজা ঋন নিয়েছিল। ওই ঋন আদায় করতে গেলে পরিকল্পিত ভাবে আমার কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালানো হয়।
এ ব্যাপারে চন্দ্রগন্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন মিডিয়া কর্মীদের জানান, হামলার শিকার আলী আহম্মদ বাদী হয়ে মামলা করেছে। আটক জামাল মেম্বারকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে।

Print Friendly, PDF & Email