সমর্থকদের এমন ভালোবাসা পাব ভাবিনি

ইতিহাস সৃষ্টিকারীদের নিয়ে মাতামাতি হবে এটাই স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। সকাল থেকেই সাজ সাজ রব ছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে। যেন উৎসবের শহর। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন সাফল্য আর আসেনি।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট জিতেছে বাংলাদেশের যুবারা, সেটাও আবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরূপ কন্ডিশন থেকে।দেশে ফেরার পর এই বিশ্বজয়ী যুবাদের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা তো প্রাপ্যই। বাংলাদেশ যুব দলের অধিনায়ক আকবর আলিও জানতেন, দেশের মাটিতে সংবর্ধনা পাবেন। কিন্তু সমর্থকদের উচ্ছ্বাসটা যে এতটা হবে, ভাবেননি তারা।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখে বিশ্বজয়ী যুব দল।

তার আগে থেকেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে বিমানবন্দর এলাকা। শুধু বিমানবন্দর এলাকাই নয়, হাজার হাজার ক্রিকেট সমর্থক বিকেল ৪টা থেকে অবস্থান নেয় মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম এলাকায়ও, বিশ্ববিজয়ী বীরদের বরণ করে নেয়ার জন্য। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন লেখা ব্যানারো মোড়ানো বাসে করে বিমানবন্দর থেকে আকবর আলিদের নিয়ে আসা হয় মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

তার আগেই মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ২ নম্বর পর্যন্ত এবং স্টেডিয়ামের সামনের এলাকায় অন্তত হাজার দশেক মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন, জার্সি এবং জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অপেক্ষমান থাকে বিশ্বজয়ী বীরদের বরণ করে নেয়ার জন্য। তারা সবাই চিৎকার করে আকবরদের অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন। আকবর-ইমন-রাকিবুলরা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করার পরপরই উপচে পড়া ভিড় সামলাতে পারেনি পুলিশ। হুড়মুড়িয়ে দর্শকরা প্রবেশ করে স্টেডিয়াম চত্বরে।

এ সময় অন্তত আড়াইশ থেকে তিনশ মোটর সাইকেল শোভাযাত্রাও প্রবেশ করে স্টেডিয়ামের মূল চত্বরে। দর্শক-সমর্থকদের এমন উচ্ছ্বাস দেখে রীতিমত বিস্মিত অধিনায়ক আকবর আলি।

সংবাদ সম্মেলনে যুব দলের অধিনায়ক বলেন, ‘দেশে ফেরার পর কিছু একটা হবে জানতাম। কিন্তু এমন সাড়া পড়বে ভাবিনি। যা হয়েছে, যে সাড়া পড়েছে, যে পরিমাণে ভালবাসায় সিক্ত হলাম, উল্লাস-উচ্ছ্বাস দেখলাম, রাস্তায় লাখ লাখ মানুষের ভিড়- এটা অবিশ্বাস্য। এতটা ভাবিনি। একদমই অন্যরকম লাগছে। এবং আমার বিশ্বাস- এই অর্জন এবং সর্বস্তরের মানুষের ভালবাসা এবং আবেগ উচ্ছ্বাস ও সমর্থন ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

যদিও আগেই জানা, বিশ্বজয়ী যুব দলকে সংবর্ধনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেটা ২-৩ দিনের মধ্যেই হওয়ার কথা ছিল। তবে ক্রিকেটাররা বলছেন, এখন তারা আগে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চান। তাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ কয়েকদিন পর ঠিক করা হবে।