আ.লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নতি হয়

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নতি হয়- সেটি আজ প্রমাণিত সত্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কথা ভেবেই উন্নয়নকাজ অব্যাহত রেখেছে সরকার।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা জানান, নতুন প্রজন্ম যেন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে তাদের সেভাবেই শিক্ষিত করতে চান তিনি। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তি শিক্ষায় জোর দিয়েছে সরকার।

ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক, রাজশাহীতে নির্মিত শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে উদ্বোধন করেন তিনি।

দেশের ৬৪টি জেলায় সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ এবং আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এই কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে।

একই অনুষ্ঠান থেকে শেখ হাসিনা সাতটি জেলা ও ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ফেনী ১১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতার সাতটি জেলা হলো- ঢাকা, ফেনী, গোপালগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, জয়পুরহাট এবং মেহেরপুর।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের ২৩টি উপজেলা হলো- বাগেরহাট সদর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নাসিরনগর, মেহেরপুরের আলমডাঙ্গা, কুমিল্লার দেবীদ্বার এবং মনোহরগঞ্জ, দিনাজপুরের খানসামা, জামালপুরের মাদারগঞ্জ, যশোরের সদর ও মণিরামপুর, খুলনার তেরখাদা, কুষ্টিয়ার মিরপুর, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও জুড়ী, নওগাঁর বাদলগাছী ও পত্নীতলা, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, নীলফামারীর জলঢাকা, শেরপুরের নকলা ও ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল এবং সুনামগঞ্জের ছাতক।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এম তাজুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, আইসিটি বিভাগ প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, একেএম রহমতউল্লাহ এমপি, শহীদুজ্জামান সরকার এমপি এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সেক্রেটারি এএনএম জিয়াউল আলম অনুষ্ঠানে শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ হাই-টেক পার্কগুলোর উন্নয়নের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন।

রাজশাহী শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম বাসসের রাজশাহী সংবাদদাতাকে জানান, ৭২ হাজার বর্গফুটের এই আইটি ইনকিউবেটর কেন্দ্রে বহুমুখী প্রশিক্ষণ, উচ্চমানের স্টার্ট-আপস, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে এখানে সব ধরনের ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।’

শতভাগ বিদ্যুতের আলোয় ৪১০ উপজেলা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ থেকে বাংলাদেশের ৪১০টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হলো। মুজিববর্ষে বাংলাদেশের সব ঘরে আলো জ্বলবে। কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পাঁচটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় মোট ৪৯২টি উপজেলা রয়েছে। ফলে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসতে বাকি আছে ৮২টি উপজেলা।

‘বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বেশি জোর দিয়েছি। এ পর্যন্ত সারাদেশে আমরা ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছি। প্রযুক্তিতে সারা বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, সে কারণে আমরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে আমরা এমনভাবে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চাই যেন বিশ্বের উন্নত দেশের শিক্ষার্থীদের চাইতে কোনো অংশে পিছিয়ে না থাকে। আমরা আইসিটি এবং কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছি। আমরা প্রযুক্তিনির্ভর জাতি গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, কর্মমুখী শিক্ষা ও আইটি শিক্ষার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এ কারণে আজ অনেকেই আউটসোর্সিং করে অনেক টাকা রোজগার করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালের একটি মোবাইলের দাম ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বিএনপির একজন নেতা এই মোবাইল কোম্পানির মালিক ছিলেন। তখন একটি কল ধরলেও ১০ টাকা একটি কল করলেও ১০ টাকা মিনিট খরচ হতো। এখন আমাদের হাতে হাতে মোবাইল। আমাদের তরুণরা মোবাইলের মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণ করছে। আজ প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী ৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত একটি দেশ হবে। এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন বিশ্বের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, সে জন্য আমরা ২১০০ সালকে সামনে রেখে ডেল্টাপ্লান ২১০০ ঘোষণা করে কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহীতে নির্মিত ‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’, এর ওপর একটি ভিডিওচিত্র পরিবেশন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এ এন এম জিয়াউল আলম। বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর উপস্থাপনা এবং ভিডিওচিত্র পদর্শন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ।

উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহীতে নির্মিত ‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’, শতভাগ বিদ্যুতায়িত ৭টি জেলা, ১টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র এবং ১৮টি জেলার ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন।

সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন ও সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বেলা ১১টায় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের মাসব্যাপী নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।