মেয়র প্রার্থীতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানালেন নওফেল

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, কোনো নেতাই দলের জন্য অপরিহার্য নন। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে না জড়াতে নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন নওফেল।

একই সভায় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনও বক্তব্য রাখেন। তবে তিনি মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে সরাসরি কোনো কথা বলেননি। নিজের বক্তব্যে মেয়র দলীয় ফোরামের বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আত্মঘাতী কোনো কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নওফেল-নাছির দুজনের নামই আলোচিত হচ্ছে গণমাধ্যমে।

ব্যক্তিগতভাবে নওফেল মেয়র পদে নির্বাচনে আগ্রহী নন জানালেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টপাল্টি বক্তব্যি ও বিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন এই দুই নেতার অনুসারীরা। বর্ধিত সভায় চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের কাযনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নওফেল যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন সেখানে ছিলেন না মেয়র। বক্তব্য শেষ করে নওফেল চলে যাবার সময় প্রবেশ করেন মেয়র নাছির। এসময় দুজনের মধ্যে হাসিমুখে কুশল বিনিময় হয়।

নওফেল বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আসছে। গণমাধ্যমে অনেক ধরনের আলোচনা-সমালোচনা আসবে। একজন আরেকজনের সম্পর্কে কথা বললেও আরও একটু বানিয়ে দেওয়া কিংবা না বললেও একটু লিখে দেওয়া, এগুলো কিন্তু হচ্ছে। আলোচনা-সমালোচনা এগুলো গণমাধ্যমের স্বাভাবিক কাজ। মেনেই আমাদের কাজ করতে হবে। কিন্তু এতে করে আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি যেন না হয়।  আমরা নির্বাচনে মনোনয়নের আগে এই ধরনের কথাবার্তা বলে আমাদের মনোবল দুর্বল করতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে সব থেকে শক্তিশালী সংগঠন। আমাদের মধ্যে অনেকে নির্বাচন করতে চাইবেন, স্বাভাবিক। কাউন্সিলর পদেও হয়ত সর্বোচ্চ চাইবেন। কিন্তু নির্বাচনের প্রাক্কালে কলিশন (সংঘাত) যেন না হয়। তফসিল ঘোষণা হয়ে যাবে, প্রচারণাও শুরু হবে। আমরা যেন সংযত থাকি।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দলের জন্য আমরা কেউ অপরিহার্য নয়। আমার-আপনার যতই সুখ্যাতি থাকুক, সেটা নিয়ে আমরা দল করি না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং তার কন্যার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়েই আমরা দল করি। উনার (শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। উনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তার জন্যই আমরা মাঠে নামব। একটাই ম্যাসেজ, নিশ্চয় তিনি আমাদের দিকনির্দেশনা দেবেন, সেই অনুযায়ী কাজ করব।’

আসন্ন মুজিববর্ষ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন- দুই বিষয়কে মাথায় রেখে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নওফেল। বক্তব্য শেষ করার মুহুর্তে নগর আওয়ামী লীগের এক নেতা দাঁড়িয়ে সম্প্রতি একুশে পদকের জন্য ঘোষিত তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘যারা আমাদের দলের নীতি-আদর্শে বিশ্বাস করেন না, তারা কিভাবে একুশে পদক পান?’ জবাবে নওফেল নিজেও বিস্মিত হয়েছেন জানিয়ে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

Print Friendly, PDF & Email