চীন ফেরতদের শরীরে করোনাভাইরাস মেলেনি

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, চীন থেকে দেশে ফেরত আসা ৩১২ বাংলাদেশির কারো শরীরেই করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি। এমন কি উহান ফেরত যে ৮ বাংলাদেশিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাদের শরীরেও করোনাভাইরাসের আলামত পাওয়া যায়নি।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালী আইইডিসিআর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. মিরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন, উহান থেকে আসা ৭ বাংলাদেশিকে পরীক্ষা শেষে আবারও ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আশকোনা হজ ক্যাম্পে। অন্তঃসত্ত্বা নারীর ঝুঁকি থাকায় তাকে রাজধানীর সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। উহান থেকে ফেরত আসা সব বাংলাদেশির বিমানে থাকা অবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তখন ৮ জনের তাপমাত্রা থাকায় তাদের হাসপাতালে রাখা হয়।

সিএমএইচ হাসপাতালে যিনি ছিলেন তিনি এখনও সেই হাসপাতালেই পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তার ছোট বাচ্চা থাকায় তাকে সেখানে রাখা হয়েছে, আরেকটি পরিবারে ছোট্ট বাচ্চা থাকায় তাদেরও সেখানে রাখা হয়েছে বলে জানান আইইডিসিআর পরিচালক।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) যদিও একজনের তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে, তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল। বাকিরা সবাই ভালো আছেন।

চীনের উহান থেকে দেশে ফিরেছেন ৩১২ জন বাংলাদেশি। নিজ দেশে ছুটি কাটিয়ে ২৩ জন চীনা নাগরিকও শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকায় ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৮ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়। বাকি ৩২৫ জন বাংলাদেশি ও চীনা নাগরিককে কোয়ারেন্টাইনের জন্য আশকোনা হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তবে সেখানে গণরুমের মেঝেতে ঢালাও বিছানা ও একসঙ্গে অনেকের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন চীন থেকে আসা ব্যক্তিরা।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলছে, কিছুটা  ঝুঁকি থাকলেও সতর্কতার সঙ্গে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে।

৩১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাদের মধ্যে ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বাকিদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া যায় হয়।

Print Friendly, PDF & Email