জামায়াত নেতার নেতৃত্বে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

সরকারি অনুমোদন ছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালী মহর ধারাবাহিকভাবে জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ বাজারের পাশে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। রানীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির আপন ভাতিজা রানীগঞ্জ ইউনিয়ন জামাতের সাবেক সেক্রেটারি আবুল কাসেমের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন হাজার ফুট থেকে লক্ষ ফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, জামাত নেতা নামে রানীগঞ্জ আরেক বিজনেস গ্রুপ নামে একটি প্রভাবশালী চক্র কুশিয়ারা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। যার মালিক অত্র ইউনিয়নের প্রভাবশালী ব্যক্তি বাগময়না গ্রামের বর্তমান আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মো. সুন্দর আলীর আপন ভাতিজা জামাত নেতা আবুল কাসেম। গত বছর বাজারের পাশে রানীনগর গ্রামের পাশ থেকে বালু উত্তোলন করায় এবার নতুন করে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রানীগঞ্জের উপরুক্ত আরেক গ্রুপ গত দুই মাস আগে প্রশাসনের যোগসাজসে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ বালু উত্তোলন করে। এসব অবৈধ উত্তোলিত বালু রানীগঞ্জ ফেরিঘাটের পূর্ব দিক দিয়ে পাইপলাইনে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করছে। বালু উত্তোলনের ফলে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী ৫টি গ্রামের শতাধিক পরিবার সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বর্তমানে নদী ভাঙ্গনে কবলিত বাগময়না গ্রামের পাশ থেকে বেপোরোয়া এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রসাশনের কোন প্রকার অনুমতি না দিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল  আলম মাসুমকে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে প্রকাশ্যে ড্রেজার মিশিন দিয়ে এখন পর্যন্ত ৪ লক্ষ গণফুট বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করছে। বালু উত্তোলনের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের ব্যাপারে কোন প্রকার উদ্যোগ না নেওয়ায় নদীর তীরবর্তী জনসাধাণের মধ্যে চরমক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে আরকে বিজনেস গ্রুপ মালিক আবুল কাসেমের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলে ফোনটি রিসিভ করে নাই। বালু উত্তোলনের বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম জানান, বালু অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নাই। খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।

Print Friendly, PDF & Email