লক্ষ্মীপুরে মৃত সামিউনকে নিয়ে বাবার আবেগন স্ট্যাটাস

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুর ইলেভেন কেয়ার একাডেমীর শিশুছাত্রী ফৌজিয়া আরেফিন সামিউনের অনাঙ্কখিত মৃত্যুর পর আবেগন স্ট্যাটাস দিয়েছে শিশুটির বাবা কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব গিয়াস উদ্দিন।

শুক্রবার ভোর রাত ৩টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি এ আবেগন স্ট্যাটাস দেন।

পাঠকদের জন্য হুবহু তুলেধরা হলো:

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বোঝা নাকি বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ!! আমার এই ক্ষনিক বয়সে এই বোঝাটি যে বইতে হবে তাহা কল্পনাতেও ভাবিনি। স্কুল শিক্ষকদের বড় ভুলের কারনে আমি হারিয়েছি আমার কলিজার টুকরো ফুটফুটে মেয়েটিকে। ১ জানুয়ারী যে মেয়েটি মেধাস্থান অর্জন করায় ক্রেষ্ট নিয়ে বাসায় আসছিল আজকে সেই মেয়েটি সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে ভাবতেই অবাক লাগে। আমার কত স্বপ্ন ছিল যে মেয়েকে নিয়ে, নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল। বিকাল ৩ঃ১৬ মিনিটে যে মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলেছি, সেই মেয়ে ৫ টার সময় মৃত্যু বরণ করা স্বাভাবিক। আমি যথাযথ আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও আইনের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে তা করতে পারিনি। একজন অসহায় অসমর্থ বাবাকে মাপ করে দিস মা। আজকের দিনটি তোকে দিলে হয়ত এমনটি নাও হতো। পরিশেষে বলব হে মহান সৃষ্টিকর্তা, জীবন মৃত্যু যদি তোমার ইশারায় হয়ে থাকে তাহলে আমার মাছুম মেয়েটিকে তুমি জান্নাতি মেহমান হিসেবে কবুল কর। আমার মেয়ের নামাজে জানাজা সকাল ১০ঃ০০ ঘটিকার সময় আমার নিজ বাড়ীতে অনুষ্ঠিত হবে। সবাই মহান রাব্বুল আলামিননের নিকট আমার বাচ্চার জন্য দোয়া করবেন।

উল্লেখ, কুমিল্লার ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কে শিক্ষা সফরে গিয়ে লক্ষ্মীপুর ইলেভেন কেয়ার একাডেমীর শিশুছাত্রী ফৌজিয়া আরেফিন সামিউন (৮) মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে কান্না থামছে না মা-বাবাসহ আত্মীয়-স্বজনদের।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে প্যারাডাইস পার্ক থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছে । কিন্তু শিক্ষকদের অসচেতনতা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই শিশুটি মারা গেছে বলে পরিবারের অভিযোগ। শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি বলেও পরিবারটি দাবি করেন।

Print Friendly, PDF & Email