বাঁশের সাঁকোই ভরসা

সেতু না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে হাজারো মানুষ। পারাপারের তালিকায় রয়েছে কয়েকশ শিক্ষার্থীও।

জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের খানপুর বাজারসংলগ্ন চিত্রা নদীর ওপর নির্মিত এ সাঁকোটিই পারাপারের একমাত্র ভরসা দুপাড়ের বাসিন্দাদের। বিশালাকৃতির ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো পার হওয়ার সময় ভয়ে থাকে সবাই। পা পিছলে পড়ে গিয়ে ঘটে দুর্ঘটনা। সাঁতার না জানা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আশঙ্কায় থাকতে হয় অভিভাবক ও শিক্ষকদের।

একটি ব্রিজের অভাবে এমন দুর্দশা এখানকার বাসিন্দারা। ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিয়েছে। তবে মেলেনি ব্রিজ-মিলেছে আশ্বাস! এমনকি সাঁকো নির্মাণে সরকারি কোনো অনুদান মেলে না। প্রতিবছর দুপাড়ের বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। চাঁদা তুলে কেনেন বাঁশ-খুঁটি। এটি তত্ত্বাবধান করে খানপুর বাজার কমিটি।

বাজার কমিটির সভাপতি অশোক বিশ্বাস জানান, সপ্তাহে দুদিন শুক্র ও সোমবার খানপুরে হাট বসে। পাশের শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে আসেন এ হাটে। তাদের পণ্য পারাপারে একমাত্র ভরসা বিশালাকৃতির এই সাঁকো। এ ছাড়া কয়েকশ শিক্ষার্থী পার হয় এ সাঁকো দিয়ে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাদের অভিভাবকরা।

খানপুর চিত্রা নদী পার হলেই উত্তরে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার সীমাখালী, কাতলী, ছয়ঘরিয়া হরিশপুর, খোলাবাড়িয়া, আড়ুয়াকান্দি ও পাঁচকাউনিয়া গ্রাম। এসব গ্রামের অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন পারাপার হয় এ সাঁকো দিয়ে।

এর মধ্যে বাঘারপাড়া উপজেলার খানপুর সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদরাসা, খানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী পারপার হয় এ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে। এসব শিক্ষার্থীদের অনেকেই সাঁকো থেকে ছিটকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে একাধিকবার। কাছাকাছি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় শালিখা উপজেলা থেকে বাঘারপাড়া উপজেলায় পড়তে আসেন এসব শিক্ষার্থীরা।

শালিখা উপজেলার বাসিন্দা ও বাঘারপাড়া উপজেলার খানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন বিশালাকৃতির এই সাঁকো দিয়ে নিয়মিত পারাপার হয়। কয়েকবার সাঁকো থেকে ছিটকে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার মধুর স্মৃতি রয়েছে তার। কাছাকাছি ভালো কোনো স্কুল না থাকায় বাধ্য হয়ে অন্য উপজেলার স্কুলে আসতে হয় তাকে।

একই স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী দিশা পাল বলে, ‘আমাগের বাড়ির ধারে ভালো স্কুল নেই। তাই একেনে (এখানে) ভর্তি হয়েছি ক্লাস সিক্স (ষষ্ঠ শ্রেণি) থেকে। বর্ষাকালে দুবার সাঁকো থেকে পড়ে গিছিলাম। বই-খাতা ভিজিছিল। ব্যথাও পাইছিলাম।’

খানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম খান বলেন, শিক্ষার্থীদের বিশালাকৃতির এ সাঁকো পার হয়ে আসতে খুব কষ্ট হয়। সাঁকো থেকে ছিটকে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে প্রায়ই। ছেলেমেয়েদের কষ্ট লাঘবে আমরা অনেক দিন ধরে দাবি করে আসছি খানপুর চিত্রা নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের।

স্থানীয় নারিকেলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের আবুর সরদার বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মৌখিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছি খানপুর চিত্রা নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করার। কয়েক দিনের মধ্যে লিখিতভাবে দাবি উপস্থাপন করব।

Print Friendly, PDF & Email