ইভিএমে ভোট দেবেন যেভাবে

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হবে। ইভিএম এ নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কোন কার্ড বা ডিভাইস নেই। এছাড়া ব্লুটুথ, ওয়াইফাই বা ইন্টারনেট কানেকশনেরও কোন ব্যবস্থা নেই। ভোট কেন্দ্রে ইভিএম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবেন পোলিং অফিসার। ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচন উপলক্ষে পোলিং অফিসারদের ইভিএম বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

এ পদ্ধতিতে ইভিএমে আঙ্গুলের ছাপ দিলেই ভেসে উঠবে ভোটারের পরিচয়, যা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দেখে নিশ্চিত হলে ভোটারকে পাঠাবেন ভোট দানের গোপন কক্ষে। সেখানে প্রার্থী দেখে একবার বোতাম এবং এরপর সবুজ বোতাম চাপলেই ভোট দেওয়া হয়ে যাবে।

ইভিএমে ভোটার সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া
ভোটার সরাসরি ভোট কেন্দ্রে পোলিং অফিসারের কাছে যাবে। এর পর পোলিং অফিসার চার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন ভোটারকে শনাক্ত করবেন। প্রথমে ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) আঙুলের ছাপ দিতে হবে। যদি এভাবে ভোটারকে শনাক্ত করা না যায় তবে ইভিএম এ ভোটার নম্বর দিতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় না হলে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ব্যবহার করতে হবে। যদি তাতেও না হয় তবে শনাক্ত করণের সব শেষ প্রক্রিয়া স্মার্ট পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভোটারকে শনাক্ত করা হবে। নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোটকক্ষে একজন করে ভোটার ভেরিফিকেশন করবেন পোলিং অফিসার। ডেটাবেজে ভোটার বৈধ হিসেবে শনাক্ত হলেই ভেরিফিকেশনের সঙ্গে যুক্ত প্রজেক্টের মাধ্যমে তা পোলিং এজেন্টের কাছে দৃশ্যমান হবে। মেশিনটিতে কুইক রেসপন্স কোড কিউআর কোড সহ আরও কিছু তথ্য সংবলিত টোকেন মুদ্রণ করে ভোটারকে দেওয়া হয়। ভোটার টোকেন নিয়ে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে এলে ভোটিং মেশিনের কিউআর কোড স্ক্যানারের মাধ্যমে শনাক্ত করে গোপন কক্ষে থাকা তিনটি পদের জন্য ব্যালট ইউনিটে ব্যালট ইস্যু করা হবে।

ইভিএমের মাধ্যমে ভোট প্রয়োগ
ভোটার হিসেবে শনাক্তকরণের পর গোপন কক্ষে থাকা ইভিএম মেশিনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সচল হবে। যতগুলো পদের জন্য ভোট প্রদান করতে হবে কক্ষের ভেতরে ঠিক ততগুলো ডিজিটাল ব্যালট ইউনিট রাখা থাকবে। এই ইউনিটে প্রার্থীদের প্রতীক বামপাশে এবং নাম ডানপাশে দেখা যাবে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে তার প্রতীকের বামপাশের কালো বাটনে চাপ দিতে হবে। এ সময় প্রতীকের পাশে বাতি জ্বলে উঠবে। ভোট নিশ্চিত করতে ডানপাশের সবুজ বাটনে চাপ দিতে হবে। একই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য পদের জন্যও ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

কোন কারণে ভোটার যদি ভুল প্রতীক শনাক্ত করেন তবে সবুজ রঙের কনফার্ম বোতাম চাপ দেওয়ার আগে তা সংশোধন করতে পারবেন। ভুল সংশোধনের আগে ডানপাশের লাল রঙের কেনসেল বোতামে চাপ দিতে হবে। এতে ভুল করে দেওয়া পূর্বের ভোটটি বাতিল হয়ে যাবে। ফলে নতুন করে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন ভোটার। সঠিকভাবে পুনরায় প্রতীকের পাশের বোতামে চাপ দিয়ে সবুজ রঙের কনফার্ম বোতামে চাপ দিলে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সবুজ রঙের কনফার্ম বোতাম চাপ দেওয়ার পর ভোটারের ভোট দেওয়া প্রতীক ছাড়া বাকি সব প্রতীক অদৃশ্য হয়ে যাবে। এতে ভোটার নিশ্চিত হবেন যে, ওই প্রতীকে তার ভোট প্রদান প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে এভাবে দুইবার কেনসেল করা যাবে। তৃতীয়বার যেটি সিলেক্ট করা হবে সেটি বৈধ ভোট হিসেবে গৃহীত হবে।

জানা যায়, ইভিএমের একটি মেশিনে প্রায় চার হাজারটি পর্যন্ত ভোট দেয়া যায়। সর্বোচ্চ ৬৪ জন প্রার্থীর তালিকা থাকে। একটি ভোট দিতে আনুমানিক ১৪ সেকেন্ড সময় লাগে। বাটন চাপ দিয়ে যেকোন ব্যক্তি ভোট দিতে পারেন। একজন ভোটারের কোনভাবেই একটির বেশি ভোট দেয়ার সুযোগ থাকে না। কেউ চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে ভোট সম্পূর্ণ হয়েছে বলে সংকেত দেবে ইভিএম।

ইভিএম মেশিনটিতে একটি পূর্ব-প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্রের নির্ধারিত ভোটারের সংখ্যা এবং সকল তথ্য দেয়া থাকে। এ প্রোগ্রামিং ব্যতিত অন্য কোন তথ্য বা ডিভাইস সংযোজন করা সম্ভব নয়। এছাড়া ইভিএমের পূর্ব-প্রোগ্রামিং এ মাইক্রোচিপ থাকে যা প্রতিটি ভোটের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে হিসাব করে প্রদর্শন করে।

পোলিং অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ইভিএমের মাধ্যমে ভোটারদের ভোট প্রয়োগে সহযোগীতা করতে আমাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ইভিএমে ভোট দিতে ভোটারের সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। ইভিএমের মাধ্যমে সহজেই ভোটার তার ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন।’

Print Friendly, PDF & Email