কেন্দ্র পাহারার নামে সন্ত্রাসীরা পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে পাহারার নামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো আছে। একটা বিষয় খুব উদ্বেগজনক, সেটা হচ্ছে নির্বাচন সামনে রেখে বহিরাগতদের জড়ো করা এবং অস্ত্রধারীরাও এর মধ্যে আছে। নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখতে হবে। কারণ এমন অভিযোগ আছে, খবর আছে- নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে পাহারার নামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দিতে পারে। সে অবস্থায় নির্বাচন কমিশনকে বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।বহিরাগতদের উপস্থিতির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বহিরাগতদের উপস্থিতি বলতে আমি বুঝি, আমাদের কাছে ইনফরমেশন হচ্ছে, বিএনপি সারাদেশ থেকে বহিরাগতদের এনে ঢাকায় জড়ো করছে। তাদের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দাগী সন্ত্রাসীরাও রয়েছে। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই কারণে আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য এবং বিষয়টি নজরদারিতে আনার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছি।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত। নির্বাচন কমিশন যেভাবে আদেশ দেবে, নিয়ন্ত্রণ করবে, তারা সেভাবে চলবে। আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তির একটা প্ল্যাটফর্ম বিএনপি। কাজেই এই শক্তিকে একেবারে দুর্বল বা ভঙ্গুর বলা সমীচীন নয়। তাদেরও সমর্থন আছে। দলের অবস্থা খারাপ থাকলে সন্ত্রাসী থাকবে না এমন তো নয়। তাদের সমর্থক সারা বাংলাদেশে আছে, এটা হলো বাস্তবতা।নির্বাচন কমিশনের আক্ক্সক্ষার প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন অশুভ কোনো তৎপরতা বন্ধ করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন নজরদারিতে রাখবে। বহিরাগতদের নজরদারিতে রাখতে হবে। অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধীদের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কাজে লাগতে হবে; যাতে এরা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বাধা না হয়।জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন আছে উল্লেখ করে এই নির্বাচনে সেই দুর্বলতাগুলো থাকবে কিনা সাংবাদিকরা তা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই প্রশ্নটা করবেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। আমি সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক, আমি কিছু বলা মানেই হচ্ছে- নির্বাচনটা ভালোভাবে করা বা না করার দায়িত্ব আমার। আমরা সহযোগিতা করতে পারি। একটা নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশন সরকারি দল থেকে যে ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে, সরকার সেই সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।নির্বাচনের প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অবশ্যই আমরা একটা উৎসবমুখর ভালো নির্বাচন আশা করি। মানুষ ভোট দিতে চায়, তাদের ভোট দেওয়ার আগ্রহ আছে। কাজেই জনগণ যাকে খুশি, তাকে যেনো ভোট দিতে পারে- এটাই আমাদের চাওয়া। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর এখানে একটা ভূমিকা থাকা দরকার। আমরা সরকারি দল হিসেবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
এদিকে করোনাভাইরাস ইস্যুতে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে কোনো অসুবিধা হবে না বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী।তিনি বলেন, চীন থেকে যারা আসছেন তাদের ব্যাপারে আমাদের নজরদারি আছে। আমরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। আর যারা এরই মধ্যে এসেছেন নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে ১৪ দিন কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখা হয়েছে। এতে আমাদের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বিঘ্নিত হবে না।পদ্মা সেতুতে এক হাজারের মতো চীনা শ্রমিক বা কর্মী কাজ করছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের মধ্যে ১৫০ জন শিফটিং ছুটিতে থাকেন। এতে আমাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বা পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে কোনো অসুবিধার সৃষ্টি হবে না।

Print Friendly, PDF & Email