ইভিএমে ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমেরিকা, বৃটেনসহ কয়েকটি দেশের রাষ্টদূতরা ইসিতে এসে ইভিএম মেশিন দেখে গেছেন। এ নিয়ে তারা সন্তুষ্টও প্রকাশ করেছেন।

বিএনপির উদ্দেশে এ সময় তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) তো ইভিএম দেখতে আসেন না, আমরা তো ওপেন রেখেছি। আপনারা এসে দেখেন। যদি তারা না আসেন, আমরা তাদের কীভাবে আনতে পারি।’

ইসি সচিব আরো বলেন, ‘ইভিএম-এ জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। যদি কারও আঙুল না থাকে তবে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ওই ব্যক্তি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারার মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। এ ধরনের ঘটনায় মাত্র ১ শতাংশ ভোটার শনাক্ত করতে পারবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা। ১ শতাংশের বেশির প্রয়োজন হলে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া আরও বেশি লাগলে কমিশনের অনুমতি লাগবে। পরবর্তী সময়ে চাইলে এই ইভিএমের তথ্য জানা যাবে।’

এছাড়া ইভিএমের ভোটের তথ্য আমাদের কাছে ডিজিটালি সংরক্ষণ করা থাকে; ফলে মামলা করারও সুযোগ রয়েছে- উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, ‘কেউ ইচ্ছা করলে এ নিয়ে আদালতেও যেতে পারেন। কেউ মামলা করলে আমরা তথ্য দেখাতে পারব ‘

এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে দুই দলের প্রার্থীদের আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে; সেসব সামাল দিতে না পেরে আচরণবিধি সংশোধনের কথা বলছে কিনা?– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি ২০০৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় করা হয়েছিল। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে কি করা হয়? তারা সাধারণ জনগণ ও রাজনীতিকদের সঙ্গে খুব একটা কথা বলে আচরণ বিধিমালা করেননি। তখন সংলাপ হলেও সেটা অনেকটা রেসট্রিকটেট (নিয়ন্ত্রণ) হয়। অনেকের ভেতর ভয়ভীতি থাকে। তারা আচরণ বিধিমালায় অনেক কিছু চাপিয়ে দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০০৯ এবং এখনকার পরিস্থিতি তো এক নয়। এখন ডেমোক্রেটিক গভর্মেন্ট, ডেমোক্রেটিক সিচ্যুয়েশন। এখন স্বাধীনভাবে মানুষ কথা বলতে পারে। এখন টক শো করছেন, এত টেলিভিশন, এত পত্রিকা। তখন কি এগুলো পারা যেত? এত কিছু বলতে পারতেন?’

এ সময় সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে- বিএনপির এই অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পর্যবেক্ষকদের কোনো কার্ড দেওয়ার ব্যাপারে কমিশন থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে যে নীতিমালা আছে সেই অনুযায়ী দিচ্ছি। যারা ইসিতে নিবন্ধিত তাদেরকেই কার্ড দেওয়া হবে।’

আসন্ন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন উপলক্ষে কেন্দ্রগুলো সিসি টিভির আওতায় আসবে কি-না?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত যেসব প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা আছে, সেগুলোকে সচল রাখার জন্য বলা হয়েছে। যাতে করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সেইসব ক্যামেরার মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করা যায়। তবে কেন্দ্রগুলোর বুথে কোনো ভাবেই যাতে কোনো সিসি ক্যামেরা না থাকে সেবিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।’

Print Friendly, PDF & Email