তামিম-মাহমুদউল্লাহদের প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ

পাকিস্তানে সফরে গিয়ে বাংলাদেশ দল সম্ভবত ভুলেই গিয়েছিল যে খেলাটি টি-টোয়েন্টি। তাদের ব্যাটিংয়ের ধরন দেখে মনে হয়েছে ওয়ানডে ম্যাচে ব্যাটিং করছে। তামিম ইকবালের কথাই ধরুন না। অভিজ্ঞ এই দেশ সেরা এই ওপেনার সর্বোচ্চ ৬৫ রানের ইনিংসটি খেললেন ঠিকই কিন্তু তা এল ৫৩ বলে।

আর তার স্ট্রাইক রেট ১২২.৬৫! ও ভাল কথা, ব্যক্তিগত ১৬ রানে তিনি একবার জীবন পেয়েছিলেন আর সেই সঙ্গে অর্ধশতকের ঠিক আগে রিভিউ নিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন আরো একবার। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান এল আফিফ হোসেন ধ্রুব’র ব্যাট থেকে। যা সংগ্রহে তিনি খেলেছেন ২০টি বল। স্ট্রাইক রেট ১০৫.০০। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অবস্থাও তথৈবচ। ১২ রান সংগ্রহ করেছেন ১২ বল থেকে। স্ট্রাইক রেট।

আর বাকিদের কথা তো বলাই বাহুল্য। লিটন দাসকে ৮ রান সংগ্রহ করতে খেলতে হয়েছে ১৪টি বল। মোহাম্মদ নাইম শেখ অবশ্য রানের খাতায় খুলতে পারেননি। আর সৌম্য সরকার ৫ বলে ৫ রানে অপরাজিত থাকলেন! তাতে ২০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে সংগ্রহ এল ১৩৬ রান। ১৩৭ রানের মামুলি লক্ষ্য স্বাগতিকরা ছুঁয়ে ফেলল মাত্র ১ উইকেটের খরচায়। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল পাকিস্তান।

এই সফরে লাহোরে শুক্রবারের (২৪ জানুয়ারি) মতো শনিবারও (২৫ জানুয়ারি) টস জিতে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করেছে।

এদিকে, একই ভেন্যুতে উইকেটের আচরণও অভিন্ন। স্লো উইকেট, ব্যাটে বল কিছুটা মন্থর গতিতে আসে। এতেই কিনা কুপোকাত! এমন উইকেট তো তাদের অপরিচিত নয়। মিরপুরেও তারা একই উইকেটে খেলে থাকেন। তাহলে পাকিস্তানে এই বেহাল অবস্থা কেন? পরিতাপের ব্যাপার হলো, দ্বিতীয় ম্যাচটি প্রথম ম্যাচের মতোও দাপুটে হলো না! এখানে আরো বিবর্ণ লাল সবুজের দল।

প্রথম ম্যাচে দলীয় সংগ্রহ যেখানে ১৪১ রান ছিল, সেখানে এই ম্যাচে হলো ১৩৬! প্রথম ম্যাচে পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৩৫। দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগারদের অবস্থা ছিল আরো বাজে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৩। যার মধ্যে প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন মোহাম্মদ নাঈম ও মেহেদি হাসান। প্রথম ম্যাচে হারের পর ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেছিলেন অধিনায়ক মাহমুদুউল্লাহ। কিন্তু তার কথার সাথে কাজের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া গেল না। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই গোল্ডেন ডাক মেরে বিদায় নিলেন নাইম শেখ।

শাহিন শাহ আফ্রিদির লেংথ বল স্কয়ার কাট করতে গেলে তা এজ হয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের সুরক্ষিত গ্লাভসে। দ্বিতীয় উইকেটে তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগ দেন সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে মারকুটে ব্যাটসম্যানের তকমা পাওয়া অফস্পিনিং অলরাউন্ডার তরুণ মেহেদি হাসান। থিতু হয়ে পরের ওভারেই ইমাদ ওয়াসিমকে ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ উড়িয়ে দেন। কিন্তু খুব বেশিক্ষণ উইকেটে আঁকড়ে থাকতে পারেননি।

পঞ্চম ওভারে মোহাম্মদ হাসনাইনের দ্বিতীয় ডেলিভারিটি পুল করতে গেলে তা এজ হয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। যাওয়ার আগে নামের পাশে যোগ করেন মাত্র ৯ রান। ১২টি বল খেলে এই রান সংগ্রহে সক্ষম হন মেহেদি। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ২২ রান। চাপে পড়ে মাহমুদউল্লাহদের ইনিংস। তৃতীয় উইকেটে লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে সেই চাপ সরাতে চেয়েছিলেন ক্রিজের অপর প্রান্ত আগলে রাখা তামিম ইকবাল। বিধি বাম! হলো না। দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগে ফিরে গেলেন লিটনও।

৮ম ওভারের পঞ্চম বলটি হাফ পুল করে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি, বল গিয়ে আঁছড়ে পড়ে বাঁ পায়ের প্যাডে। আবেদন করেন শাদাব। খুব একটা জোরালো না হলেও আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। তামিমের সঙ্গে আলোচনা করে বলে রিভিউ নেন লিটন। আম্পায়ার্স কলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যেতে হয় লিটনকে। তার ফেরায় পাকিস্তানের তৃতীয় বোলার হিসেবে ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারে উইকেট পেয়ে যান শাদাব খান।লিটন-মেহেদি না পারলেও পেরেছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।

চতুর্থ উইকেটে তামিম ইকবালের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে দলকে শতকের পথে ছোটান। কিন্তু আচমকাই পা হড়কালেন আফিফ। ১৫তম ওভারে মোহাম্মদ হাসনাইনের চতুর্থ ডেলিভারিটি স্ল্যাশ করতে গেলে ২১ রানে থার্ড ম্যানে থাকা হ্যারিস রউফের ক্যাচ বনে যান। এর ঠিক দুই ওভার পরে রান আউট হয়ে ইনিংসের এপিটাফ লিখে দেন তামিম ইকবালও। সিরিজে এটি তার ব্যাক টু ব্যাক রান আউট। বাংলাদেশের সব শেষ উইকেটের পতন হয় ২০তম ওভারে। মন্থর ব্যাটে ক্রিজের অপর প্রান্তে দলের ভরসা হয়ে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ব্যক্তিগত ১২ রানে হারিস রউফের বলে ক্লিন বোল্ড হন।

এরপর সৌম্য সরকারের অপরাজিত ৫ ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের অপরাজিত ৮ রানে ১৩৬ রানের মামুলি সংগ্রহে মাঠ ছাড়ে টিম বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ১৩৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তান দলীয় ৬ রানে আহসান আলীর উইকেটটি হারালেও বাবার আজম ও মোহাম্মদ হাফিজের বিস্ফোরক ব্যাটে মাত্র ১ উইকেটের খরচায় ১৬.৪ ওভারেই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে।

বাবর আজম ১৫০.০০ স্ট্রাইক রেটে ৪৪ বলে করেছেন অপরাজিত ৬৬ রান। আর মোহাম্মদ হাফিজ ১৩৬.৭৩ স্ট্রাইক রেটে ৪৯ বলে খেলেন ৬৭ রানের ঝলমলে ইনিংস। বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন শফিউল ইসলাম। একই ভেন্যুতে ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি।

Print Friendly, PDF & Email