সভাপতির হামলায় হাসপাতালে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক

সভাপতির হামলা শিকার হয়েছেন নীলফামারীর মাগুড়া শাহ্ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে তিনি বিস্তারিত একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সোনালীনিউজ-এর পাঠকদের জন্য তার সেই স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো-

‘প্রিয় ফেসবুক বন্ধুগন, আমার সালাম নিবেন। আসসালামু আলাইকুম। আমি ইতোপূর্বে, যে আশঙ্কা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম , আমার মৃত্যুর জন্য শাহ্ মোহাম্মদ মুরাদ রুবেল দায়ী থাকবে। বাস্তবে তা রূপ না নিলেও, আমার মৃত্যু না হলেও, আমি তার দ্বারা অত্যন্ত আক্রান্ত হয়েছি। আমি এখন মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছি। তার সোজাসাপ্টা কথা- আমি সভাপতি থাকবো। এটা আমার পারিবারিক বিদ্যালয়।

তুই এখানে চাকরি করতেছিস। চাকরি করে খা। অন্য কেউ সভাপতি হলে আমাদের পরিবারের মান ইজ্জত শেষ হয়ে যাবে। উত্তরে আমি বলি, আপনি সভাপতি হন, তাতে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু সে আমার কথা না শুনে, আমি কেন মাইকিং করেছি -এইটার কৈফিয়ৎ দাবি করে। তাকে আমি সরকারি ম্যানুয়াল দেখাই কিন্তু সে সেই ম্যানুয়াল হাতে নিয়ে দূরে ছুড়ে ফেলে দেয়। তিনি তার সাথে করে একজন মাস্তান গুন্ডা- নাম রবি, পিতার নাম লেবু মিয়া। তাকে নিয়ে বিদ্যালয়ে হাজির হয়।

অফিস কক্ষের ভিতর রবি আমাকে চরম অপমান করে এবং বলে পাগলাপীর কি দিয়ে গেলে তোকে আজকে মরণ মার দিব। আমি প্রতিবাদ করলে সঙ্গে সঙ্গে তারা- রুবেল শাহ্, সোহেল শাহ্ এবং ভাড়া করা গুন্ডা রবি যার বাড়ি পাগলাপীরে- তারা আকস্মিকভাবে আমাকে মারধর করে। এ ব্যাপারে আমি কিশোরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করি এবং মেডিকেলে ভর্তি হই। এ ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার। একই ঘটনার জের ধরে আজকে আবার তারা আমাকে সম্মিলিতভাবে পাগলাপীরে মারধর করে। আমি বর্তমানে রংপুর মেডিকেলে ভর্তি আছি।

আমি এ ব্যাপারে আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং সকল শিক্ষক/ শিক্ষিকা ভাই বোন দেরকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি এর প্রতিকার হিসাবে আইনত যা করা যায়, সে ব্যাপারে আমাকে সহযোগিতা করবেন। প্রয়োজনবোধে, আমরা মানববন্ধন করব, আমরা শিক্ষক সমাজ এভাবে অবহেলিত হয়ে মার খেয়ে পড়ে থাকতে চাই না। এভাবে সভাপতির হাতে বারবার লাঞ্চিত ও অবহেলিত হতে চাই না।’ (ফেসবুক থেকে নেওয়া)

Print Friendly, PDF & Email