লক্ষ্মীপুরে মসজিদে ঢুকে মোতাওয়াল্লীকে পেটালেন আ’লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কাজী জামসেদ কবির বাকী বিল্লাহ’র বিরুদ্ধে মসজিদের মোতাওয়াল্লীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রায়পুর বড় মসজিদে (ওয়াক্ফ এস্টেট) ঘটনাটি ঘটে। এসময় আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সহযোগীদের অতর্কিত হামলায় আরও অন্তত ৪ জন মুসল্লি আহত হন বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন- রায়পুর বড় মসজিদের মোতাওয়াল্লী কামরুল আল মামুন, মুসল্লি মাসুম বিল্লাহ, রাকিব আল ফারুক, বাহার হোসেন ও আবদুল গফুর সেলিম। অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা বাকী বিল্লাহ এই মসজিদের অব্যহতি প্রাপ্ত কমিটির সেক্রেটারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজের আগে মোতাওয়াল্লী কামরুল আল মামুন মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে কথা বলছিলেন। এসময় মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জামসেদ কবির বাকী বিল্লাহ তার কয়েক অনুসারীকে নিয়ে ওই মোতাওয়াল্লীর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। মোতাওয়াল্লী মামুনকে রক্ষা করতে গিয়ে আরও অন্তত ৪ জন আহত হন। মোতাওয়াল্লী মামুনের মুখে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে ভুক্তভোগী রায়পুর বড় মসজিদ ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লী মো. কামরুল আল মামুন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘বাকী বিল্লাহ ও তার লোকজন মসজিদের ভেতরে অতর্কিতভাবে আমার উপর হামলা চালায়। তারা এমপির মাধ্যমে থানায় বৈঠক বসিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে রায়পুর বড় মসজিদ (ওয়াক্ফ এস্টেট) পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন কাজী জামসেদ কবির বাকী বিল্লাহ। ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয় কামরুল আল মামুনকে মসজিদসহ ওয়াকফ্ সম্পত্তিটির মোতাওয়াল্লী পদে নিয়োগ দেন। কিন্তু সেক্রেটারী বাকী বিল্লাহ নবনিযুক্ত মোতাওয়াল্লীকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। প্রায় সাড়ে ৪ বছর এভাবেই চলে। রায়পুর বড় মসজিদ ওয়াক্ফ এস্টেট নিয়ে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যলয়ের সহকারী কমিশনার (আরএম শাখা) শারমিন আক্তার সুমির স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে মোতাওয়াল্লী কামরুল আল মামুনকে ১০ দিনের মধ্যে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অব্যহতি প্রাপ্ত কমিটির সেক্রেটারী কাজী জামসেদ কবির বাকী বিল্লাহকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি জুমার নামাজের সময় বাকী বিল্লাহ নবনিযুক্ত মোতাওয়াল্লী মামুনকে পরিচয় করে দিয়েছেন। কিন্তু অফিসিয়ালি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিজের পরিচয় দিয়ে বক্তব্য দিতে গেলে মোতাওয়াল্লী মামুনের উপর হামলা চালায় বাকী বিল্লাহ ও তার লোকজন। পদ দখলে রাখতে আওয়ামী লীগ নেতা পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এদিকে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রায়পুর থানায় বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়। এতে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের সাংসদ কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোতা মিয়া, অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা বাকী বিল্লাহ ও আহত মোতাওয়াল্লী কামরুল আল মামুন সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে রায়পুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী জামসেদ কবির বাকী বিল্লাহ বলেন, এমপি সাহেব সহ থানায় বৈঠক বসে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোতা মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। যেকারণে লিখিত অভিযোগ হয়নি।

তবে এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের সাংসদ কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email