লক্ষ্মীপুরে এক বছরে ৬৯ হাজার বিদ্যুৎ সংযোগ : লাইন নির্মাণ ১৪শ’ কি.মি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ প্রকল্পের আওতায় গেল এক বছরে লক্ষ্মীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৬৯ হাজার ৩১৬ জন গ্রাহককে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ১৪০৪.৮৪ কিলোমিটার নতুন লাইন।

এরই মধ্যে জেলার রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার শতভাগ বাসিন্দা বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। আর আসন্ন মুজিব বর্ষেই জেলার বাকী ৩ উপজেলার প্রত্যেকটি ঘরে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেবে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

এতে পুরো জেলা শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। এছাড়া জেলার উপকূলীয় দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে চলতি বছরে। সেজন্য সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র জানায়, গেল ২০১৯ সালের জেলার সদর উপজেলার ২৫১৭২ জন নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়ছে। এক বছরে এ উপজেলায় লাইন নির্মাণ করা হয়েছে ৬৪২.০১ কি. মি.। রামগতিতে নতুন মিটার সংযোগ দেওয়া হয়েছে ১২১৫৩ জন গ্রাহককে। নতুন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে ৩৫৩.৩৩ কি. মি.। কমলনগরে ১১৯০৫ জন নতুন গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। এক বছরে লাইন নির্মাণ হয়েছে ৪০৯.৫ কি. মি.।

রায়পুরে ১৪২২৮ জন এবং রামগঞ্জে ৫৮৫৮ জন গ্রাহক নতুন মিটার সংযোগ পেয়েছে। প্রক্রিয়াধীন আছে আরও কয়েক হাজার নতুন সংযোগ। আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যেই ওইসব গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এনে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হবে পুরো জেলাকে।

সূত্র আরও জানায়, সমিতির আওতাধীন জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৭৪৫২.৯৬ কি. মি. নির্মাণকৃত বিদ্যুৎ লাইনে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প, দাতব্য ও সেচ প্রকল্পসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির গ্রাহক সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৬০ জন। ৮৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মাধ্যমে এসব গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৯টি বিদ্যুৎ সরবরাহ উপকেন্দ্র (সাব্ষ্টেশন) রয়েছে। ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরও তিনটি উপকেন্দ্রের কাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে সেগুলো চালু হবে বলে জানায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। পূর্বে বিদ্যুৎ সরবরাহকালীন বিদ্যুৎ অপচয় (সিষ্টেম লস্) ছিলো ২৪ শতাংশ। উপকেন্দ্র বাড়ার কারণে বর্তমানে সেটা নেমে এসেছে ৮ শতাংশে।

সমিতির সদস্য সেবা বিভাগের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) এসএমজি এলমান শাহ জানান, চলতি অর্থ বছরে (২০১৯-২০) নতুন মিটার সংযোগ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৮ হাজার।

কিন্তু গেল বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে নতুন মিটার সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ৩৬ হাজার ২৬৯ জনকে। যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি। তিনি আরও জানান, মুজিববর্ষকে ঘিরে দক্ষ জনশক্তি তৈরীর লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার ৩০ জন বেকার যুবককে ইলেট্রিক্যাল কাজের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে সমিতি। পুরো মুজিববর্ষে দুই মাস পর পর মোট দুই হাজার একশ জনকে এ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শাহজাহান কবির বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকায় জেলাতে কোন লোডশেডিং নেই। তবে, লাইন মেরামত বা কারিগরি ক্রটির কারণে মাঝে মধ্যে কোন কোন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকে। তিনি বলেন, ঘরে ঘরে হয়রানি বিহীন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে সমিতি বিভিন্ন প্রদক্ষেপ নিয়েছে। প্রত্যেক মানুষ যেন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসে সে লক্ষ্যে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোতেও লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে।

মুজিববর্ষের আগেই প্রত্যেক পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। দালাল কর্তৃক প্রতারণা এবং হয়রানি বন্ধে গ্রাহকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরণের প্রচারণা, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং উঠান বৈঠন করা হচ্ছে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সমিতি।

সমিতির অনুমোদিত ঠিকাদার, ইকেট্রিশিয়ান বা এলাকা ভিত্তিক দালালদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায় একজন ঠিকাদারকে টাকা ফেরৎ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। মামলা করা হয়েছে কয়েকজন দালালের বিরুদ্ধে। অসাধু ইলেট্রিশিয়ানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে সমিতি।