লক্ষ্মীপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা : তদন্তে পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রানাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে টাকা আত্মসাতের মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী অঞ্চল (রামগঞ্জ) আদালতে ভূক্তভোগী মো. জাকির এ মামলা দায়ের করেন।

এদিকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে চেয়ারম্যান রানার বিরুদ্ধে গত ১৬ জানুয়ারি পরিষদের ৮ জন সদস্য অনাস্থা দেন। লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অনাস্থাপত্রটি দাখিল করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চেয়ারম্যান রানা ও তার অনুসারীরা নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে মহড়া দেয়। শতাধিক মোটরসাইকেল ও বেশকিছু সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে তারা এ মহড়া দেয়। এসময় তারা চেয়ারম্যান বিরোধীদের হুশিয়ারি দিয়ে উসকানিমূলক স্লোগান দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, আদালতের বিচারক রায়হান চৌধুরী মামলাটি (সিআর-২৫/২০২০) আমলে নিয়েছেন। তা তদন্তের জন্য নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। আগামি ২৪ ফেব্রুয়ারি সাক্ষীদের জবানবন্দি ও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন উপজেলার কেতুড়ি গ্রামের শামীম, নোয়াগাঁও গ্রামের মোজাম্মেল হক পলাশ, সাইফুল ইসলাম, নোয়াগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হারুন মিঝি ও বরিয়াইশের আনোয়ার ও অজ্ঞাত ৩ জন। তারা ইউপি চেয়ারম্যানের অনুসারি হিসেবে পরিচিত।

এজাহার সূত্র জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের জাকির ও জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে। সে সুবাদে জাকিরের কাছ থেকে জয়নাল ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। টাকা পরিশোধ না করায় জাকিরের বিরুদ্ধে জয়নাল ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন রানার কাছে মৌখিকভাবে বিচার দেয়। পরে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাকিরকে ৯ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। ওই টাকা জয়নালকে সরাসরি না দিয়ে চেয়ারম্যানকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জাকির চেয়ারম্যানের ইউসিবি ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট মো. মিন্টু ও বেলায়েত হোসেন বকুলের উপস্থিতিতে জাকির চেয়ারম্যানকে ৮ লাখ টাকা দেয়। চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে এ টাকা দেওয়া হয়।
কিন্তু চেয়ারম্যান টাকাগুলো জাকিরের পাওনাদার জয়নালকে বুঝিয়ে না দিয়ে আত্মসাত করে। গত ১১ জানুয়ারি ওই টাকা জয়নালকে দিতে ফেরত চাইলে চেয়ারম্যান ও আসামিরা জাকিরকে মারধর করে। এসময় জয়নালকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান পিস্তল বের করে গুলি করে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জমা দেওয়া টাকাগুলোও ফেরত দেবে না বলে জানায় চেয়ারম্যান। এনিয়ে বাড়াবাড়ি করলে জাকির ও জয়নালকে হত্যা করা হবে বলে চেয়ারম্যান হুশিয়ারি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোমবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রানার মোবাইলফোনে কল করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email