লক্ষ্মীপুরে কিশোরকে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন : আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরের পৌর এলাকায় দোকান থেকে টাকা চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে মারধর এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

এদিকে চুরির অপবাদে কিশোরকে নির্যাতনের মামলায় ইসমাইল হোসেন (৬৫) ও মো. রাশেদ (২১) নামের ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সদর থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলার পর তাদের গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার বিকেলে পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্ছানগরে রাশেদের চামড়ার দোকানের সামনে নীরব হোসেনকে (১৬) নির্যাতন করা হয়। নীরবকে খুঁটিতে বেঁধে মারধর এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে রাখা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

রাশেদের চামড়া দোকানে ছয় মাস আগে কর্মচারীর কাজ নেয় নীরব। সম্প্রতি দোকান থেকে বেশ কিছু টাকা খোয়া যায়। রাশেদ সন্দেহ করেন নীরব সেই টাকা চুরি করেছে। কিন্তু নীরব টাকার চুরি অভিযোগ অস্বীকার করে।

প্রথম পর্বে নির্যাতন চালানোর পর নীরবকে পুলিশে তুলে দেয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা বলে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়। তখন সালিশে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জিয়াউর রহমান শিপন, ইসমাইল হোসেনসহ কয়েকজন নীরবকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু এই টাকার দায় নিতে অস্বীকার করেন এতিম নীরবের অভিভাবক তার নানা। এতে হট্টগোল শুরু হলে আবার নীরবকে মারধর করা হয়।

রোববার রাত ৯টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নীরবকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সোমবার সকালে নীরবের নানী আলেয়া বেগম থানায় নীরবকে নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ আনেন। এরপর অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ২ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

দোকান মালিক রাশেদ বলেন, চুরি করার অভিযোগে এলাকাবাসী নীরবকে শাস্তি হিসেবে ঝাড়ু ও জুতার মালা পরিয়ে দেয়। পরে সালিশে স্থানীয় কাউন্সিলর ও মাতব্বররা তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

কাউন্সিলর শিপন ও সালিশে উপস্থিত ইসমাইল ঝাড়ু ও জুতার মালা পরিয়ে দেয়ার ঘটনা তারা অবহিত নন বলে জানান।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোসলেহ উদ্দিন জানান, নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email