ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের দায় নিল ইরান

ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য  দুদেশের যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে ১৮০ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেনের একটি বিমান। তবে ইরান এটিকে নিছক দুর্ঘটনা দাবি করে আসলেও এটি পরিকল্পিত আক্রমণ বলে দাবি করে আসছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এবার ভুল করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ওই বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দায় স্বীকার করলো ইরান।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস নিউজ প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ দায় স্বীকার করা হয়। দেশটির জেনারেল স্টাফ এ বিবৃতি দেন।

এতে বলা হয়, বিমানটি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের একটি সংবেদনশীল ঘাঁটির কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘মানবিক ভুলে’ ঘটনাটি ঘঠেছে। এ ভুল যারা করেছে তারা শাস্তির আওতায় আসবেন বলেও জানানো হয়েছে।

গত বুধবার ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেনের একটি বিমান। এর ১৮০ আরোহীর কেউ বেঁচে নেই। এ বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়া নিয়ে নানা কল্পনা-জল্পনা থাকলেও ইরান এটাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দাবি করেছিল।

মার্কিন সরকার এটিকে ইরানের পরিকল্পিত হামলা দাবি করার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এ বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। এতে দেখা যায়, কোনো একটি বস্তুর আঘাতে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই এটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।

এ বিমান ‘দুর্ঘটনায়’ ৬৩ কানাডীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে এ ‘দুর্ঘটনা’ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। ইরানিরা এই হত্যাকাণ্ডের কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এ হামলায় ৮০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এ হামলায় তাদের কোনো সৈন্য নিহত হননি।

Print Friendly, PDF & Email