কিছু সময় মন মতো হয়

আঠারো বছর বয়স। নাম নিয়ন। চরিত্রের মিষ্টতা তাকে চঞ্চলতা দান করেছে বটে; তবে তার অন্যমনস্ক দুষ্টু ভাবনাই হয়তো তার সময়গুলোকে নিজের মনের মতো করে তুলেছে। আজব চেহেরার আশ্চর্য এক বালক সে।

দেখা যাক……..বছরখানেক আগে, সে এক রাস্তা দিয়ে হাটছিল মনের আনন্দে। পৃথিবীতে কি হবে, কি হচ্ছে- সেদিকে তার খেয়াল না দিলেও পৃথিবীর বা ওর কোন যাবে আসবেনা। হাটতে হাটতে গেল রাস্তার পাশের একটি নালার কাছে। হাতে পাঁচটাকার একটি নোট নিয়ে খেলা করছিলো। হঠাৎ হাত ফসকে পড়ে গেল টাকাটা। সে মনঃক্ষুন্ন হয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলো।

তাৎক্ষণিক সে একটি লোককে ডেকে বলল, ‘ভাই আপনার কাছে পাঁচ টাকার কোন নোট আছে? ’ভদ্রলোক- ‘হ্যা আছে। ভাই আপনাকে একটা মজার ঘটনা দেখাচ্ছি, প্লিজ আপনি আপনার টাকাটা এই নালায় ফেলে দেন।

’ভদ্রলোক- ‘ কেন? আমার টাকা, আমি ফেলবো কেন?’
‘আহা ভাই ফেলেন না, কিছু হবে না। প্লিজ ফেলেন।

’ভদ্রলোক টাকাটি ফেললেন আর বললেন, ‘কি ঘটনা ঘটবে বলো। ’

‘কি মজা আপনিও আমার মতো বোকা। নালায় টাকাটা ফেলে দিলেন? আসলে আমার টাকাটা পড়ে গিয়েছিল তো তাই।’

ভদ্রলোক চোখ লাল করে ছেলেটির দিকে তাকালে, সে কিছুটা ভয় পায়। পরে লোকটি নাালায় ভাসতে থাকা দু’টি পাঁচ টাকার নোট তুলে নিয়ে চলে গেলেন।

আবার নিয়ন মন খারাপ করে, লোকটির দিকে তাকিয়ে রয়। পরে একটি গাড়িতে ওঠে বাসায় যাওয়ার জন্য। তবে তার দুর্ভাগ্য, সিটে বসতে গিয়ে প্যান্টটি গেল ছিড়ে।

তবে এরপরেই ঘটলো মজার ঘটনা।

‘ধ্যাৎ আজকের দিনটাই কুফা। যাক ব্যাপার না, আরেক মুকসেদ আসছে।
ভাই আপনি এখানে আমার সিটেই বসেন। ’যাত্রী- ‘ কেন? এখানে বসবো কেন? তুমি বসবেনা?’
‘না। আমি বরং দাড়িয়েই থাকি। ’
লোকটি বসলো।
নিয়ন বলল- ‘ভাই সরি, হলোনা বসাটা । আপনি দাড়িয়ে ঠিক হয়ে বসুন। ’
তিনি বসলেন এবং নিয়নের মতো তার প্যান্টটিও গেল ছিড়ে।
‘ হে হে কি মজা। আপনার প্যান্ট ও ছিড়ে গেছে। ’

লোকটি রেগে গিয়ে তাকে মারে এক চর।

আহারে বেচারা! তবে তার কি আর শয়তানি কমে? গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে গেল নিচে পড়ে। দিশেবুদ্ধি না পেয়ে, পাশের একটি ছেলেকে টানদিয়ে ফেলে দিল। এবার সে মহাখুশি। দিনটি যেমনই গেল, এতে তার আনন্দটাই বেশি।

তবে ছন্নছাড়া হয়ে সারাদিন ঘুরলেও বাড়ি ফিরে, তার মায়ের শত গালাগাল নিরবে হজম করে। কিন্তু এতে কি আর তেমন কিছু হয়? সে আবার পরের দিন শুরু করে আগের দিনের মতো, মন মতো।