পাঁচ সিন্ডিকেটে জিম্মি লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ : পর্ব ২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
পাঁচ সদস্যর একটি সিন্ডিকেট চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ। এতে প্রতিষ্ঠানটির সকল ধরনের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। একদিকে চেয়ারম্যান অন্যদিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে (হ য ব র ল) করে রেখেছে ওই সিন্ডিকেট চক্র। যার ফলে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের ৪ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকার টেন্ডারের দরপত্রই আহ্বান করতে পারেনি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে ওই পাঁচ (৫) সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ চেয়ারম্যান নিজেই।

জানা যায়, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের গোপনীয় সহকারী রুহুল কুদ্দুস রুবেল, ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী নাজিবুল হক সরকার, হিসাব রক্ষক আতিকুল হাই চৌধুরী, অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন ও সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান এর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান পর্যন্ত একটি প্রকল্পের ফাইল পৌছাতে এই ৫ সিন্ডিকেটের সদস্যদের ম্যানেজ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে উপরোক্ত ৫ জনকে একত্রে ম্যানেজ করতে হিসাব রক্ষক আতিকুল হাই চৌধুরীর হাতে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়। নাহয় কোন টেবিল থেকেই ফাইল নড়েচড়ে না। কোন ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে প্রকল্পের ফাইল হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও রুহুল কুদ্দুস রুবেলের একক স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার দাপটে পুরো জেলা পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের একাধিক ভুক্তভোগী জানায়, প্রথম স্থরে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মিজান ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী নাজিবুল হক সরকারকে ম্যানেজ করে প্রকল্পের ফাইল প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিতে হয়। সেখানে প্রধান নির্বাহীর গোপনীয় সহকারী ইসমাইলকে ম্যানেজ করে প্রধান নির্বাহীর কাছ থেকে ফাইলে স্বাক্ষর নিতে হয়, এরপর ফাইল উপরে উঠে। সেখানে চেয়ারম্যানে গোপনীয় সহকারী রুহুল কুদ্দুস রুবেলকে ম্যানেজ করে চেয়ারম্যানে স্বাক্ষর নিতে হয়। তবে রুবেলের কাছে কোন ফাইল আসলে তিনি নানান ভাবে তালবাহানা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। উপরোক্ত সব টেবিল ম্যানেজ করে চেক নিতে হিসাব রক্ষক শাখায় আসলেই আতিকুল হাই চৌধুরীর তাণ্ডবের স্বীকার হতে হয়। দীর্ঘ বছর কর্মরত আতিকুল টাকা ছাড়া কোন চেক প্রদান করেন না বলেও একাধিক ভুক্তভোগী জানায়।

নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক জেলা পরিষদের এক কর্মচারী জানান, পুরো জেলা পরিষদকে চেয়ারম্যানে গোপনী সহকারী রুহুল কুদ্দুস রুবেল ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার গোপনীয় সহকারী ইসমাইল হোসেন ভাগ করে রেখেছে। এখানে তাদের ম্যানেজ করা ছাড়া কোন কাজ করা সম্ভব নয়।

এবিষয়ে রুহুল কুদ্দুস রুবেল, মিজানুর রহমান তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ইসমাইল হোসেন জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর শওকত হোসেন শীর্ষ সংবাদকে জানান, আমি যোগদানের পর থেকে কোন অনিয়ম জেলা পরিষদে করতে দেয়নি। শুনেছি ষ্টাফদের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তবে কি কারণে এ সমস্যা তা আমার জানা নেই।

টেন্ডারের বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমি চেয়েছি দ্রুত টেন্ডার গুলো আহ্বান করতে, এজন্য দুই মাস আগে টেন্ডার প্রসেসিং এর জন্য স্বাক্ষর করে দিয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যানের একটি স্বাক্ষরের কারণে টেন্ডার গুলো ঝুলে আছে।

চোখ রাখুন:- লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের অপকর্মের মূল হোতা কে এ রুহুল কুদ্দুস রুবেল?

চলবে…

Print Friendly, PDF & Email