সমাপনী পরীক্ষার রেজাল্টের জন্য আত্মহত্যা কেন?

বিষয়টা সত্যিই দুঃখজনক। নিউজে দেখলাম, পঞ্চম শ্রেণি, অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার রেজাল্টের খবর শুনে কয়েকজন পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

জিপিএ-৫ না পেলে কিংবা অকৃতকার্য হলে যে আত্মহত্যাও করা যায়, এই কনসেপ্ট এই বাচ্চাদের মাথায় কিভাবে ঢুকেছে সেটাই বুঝতে পারছি না।

পঞ্চম কিংবা অষ্টম শ্রেণির রেজাল্ট দিয়ে কি এমন আসে যায়? এই রেজাল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মানদণ্ড ধরা হয় না। চাকরি পেতেও সামান্য কোন সহায়তা করবে না। তাহলে এতো দুশ্চিন্তা কেন এই পরীক্ষার ফলাফলের জন্য?

তবে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত। ছোট ছোট বাচ্চাদের উপর আপনাদের অহেতুক প্রত্যাশার পাহাড় চাপিয়ে দেবেন না। পরীক্ষার চাপে এমনিতেই শৈশব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এখন ফলাফলের জন্য যদি জীবনটাই চলে যায়, তাহলে সেটা অপূরণীয় ক্ষতি।

বাচ্চারা যদি অকৃতকার্য হয় কিংবা জিপিএ-৫ না পায়, তাদের বকাবকি, মারধর করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না। ভবিষ্যতে ভালো করার জন্য উৎসাহ দিন এবং এই ফলাফল যে পুরোপুরি গুরুত্বহীন, সেটা বুঝতে সাহায্য করুন।

লেখক: রিয়াজুল হক, উপ-পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Print Friendly, PDF & Email