অপবাদ সয়ে দেশের উন্নয়ন আ.লীগই করেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা স্মার্ট রাজনীতির কথা বলে বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় এসেছে, তারা দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। কিন্তু রাজনীতিতে স্মার্টনেস দেখাতে পরেছে একমাত্র আওয়ামী লীগ। অনেক অপবাদ সয়ে দেশের উন্নয়ন আওয়ামী লীগই করেছে। ক্ষরা-দুর্ভিক্ষের দেশকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করেছে।’

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকালে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের পর প্রথমবারের মতো দলের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনার বক্তব্যের পরপরই বৈঠক আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়, যা গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির প্রথম সভায় আবারও তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রশংসা করেছেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘দলের তৃণমূলের নেতারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। জীবনবাজি রেখে দলকে ধরে রেখেছেন তারা। তাদের অবদানেই এখন দল সবচেয়ে শক্তিশালী। টানা তিন বার সরকার গঠন করতে পেরেছি। অভূতপূর্ব উন্নয়ন করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পেরেছি।’ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে দলের ঐক্য ধরে রাখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগই দেশের উন্নয়ন করতে পারে। তবে এই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে দলকে সুসংগঠিত রাখতে হবে। কেননা একটি সরকার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে পারে তখন, যখন দল সুসংগঠিত থাকে। স্বাধীনতাকে আরও অর্থবহ করা হবে।’

বহু চড়াই-উৎরাই পার হয়ে, অনেক অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে আওয়ামী লীগ বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়েছে বলে সভায় মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অনেক অপপ্রচারের পরও আওয়ামী লীগকে কেউ দমাতে পারেনি; বরং মানুষের আস্থা নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এই দল।’

দেশের জন্য ২০২০ সাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘এ বছর মুজিববর্ষ হিসেবে পালিত হবে। ১০ জানুয়ারি থেকে কাউন্টডাউন হবে। ১৭ মার্চ থেকে জন্মশতবার্ষিকীর বছরব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হবে। এ উদযাপনের মধ্য দিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবে দেশ।’ ক্ষমতায় থেকে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের সুযোগ দেওয়ায় দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সভায় একাধীকবার দলের ঐক্য ও শক্তির ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দল সুসংগঠিত থাকলে সরকার সবচেয়ে সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে। সেজন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই সহযোগী ও মূল সংগঠনের সম্মেলনগুলো করা হয়েছে।’ বাকি থাকা ইউনিটগুলোতেও দ্রুত সম্মেলন করার নির্দেশ দেন তিনি।

সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই সভাটি দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন। পরে তার উদ্দেশে সভায় শোক প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

Print Friendly, PDF & Email