সিটি নির্বাচনে কোন প্রার্থী কত খরচ করতে পারবেন

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি-ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থীরা কে কত ব্যয় করতে পারবেন তা নির্ধারণ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এছাড়া কার কত টাকা জামানত দিতে হবে তাও নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় ভোটার অনুযায়ী খরচ-জামানতের অংক নির্ধারণ করেছে ইসি।

তবে দুই সিটিতে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে যত ভোটার থাকুক না কেন, জামানত ১০ হাজার টাকা, নির্বাচনী ব্যয় ৬ লাখ টাকা এবং ব্যক্তিগত ব্যয় ৫০ হাজার পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে। আর মেয়র পদপ্রার্থীদের জন্য ১ লাখ টাকা জামানত, ২ লাখ টাকা ব্যক্তিগত ব্যয় এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয় ধার্য করে দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কমিশন থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

দুই সিটির মধ্যে ডিএনসিসিতে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৭৫টি। ডিএনসিসিতে ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ৮ হাজার ৮৬৩ জন। আর ডিএসসিসিতে এ সংখ্যা ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮।

জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, দুই সিটিতে ভোটার অনুযায়ী ৪ ক্যাটাগরিতে জামানত ধার্য করেছে নির্বাচন কমিশন। যেসব ওয়ার্ডে ২০ হাজারের কম ভোটার সেখানকার কাউন্সিলর প্রার্থীর জামানত ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এসব কাউন্সিলর প্রার্থী সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা নির্বাচনী ও ১০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত ব্যয় করতে পারবেন।

আবার ২১ থেকে ৩০ হাজার ভোটার রয়েছেন, এমন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য ২০ হাজার টাকা জামানত ধার্য করা হয়েছে। এসব ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা ২ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয় এবং ২০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত খরচ করতে পারবেন। অপরদিকে ৩১ থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত ভোটার থাকলে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ৩০ হাজার টাকা জামানত দেবেন এবং সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয় ও ৩০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত ব্যয় করতে পারবেন। এর বেশি ভোটার রয়েছেন, এমন ওয়ার্ডের জন্য কাউন্সিলর পদে ৫০ হাজার টাকা জামানত, ৬ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয় এবং ৫০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত ব্যয় ধার্য করে দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত তালিকা অনুযায়ী, ডিএনসিসিতে সবচেয়ে কম ভোটার ৪১, ৪২ ও ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে। এ তিন ওয়ার্ডের নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলরদের জন্য ১০ হাজার টাকা জামানত ধার্য করা হয়েছে। নির্বাচনী ও ব্যক্তিগত ব্যয়ও হবে জামানতের ক্যাটাগরি অনুসারে। ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য জামানত ২০ হাজার টাকা। এ ওয়ার্ডগুলোতেও নির্বাচনী ও ব্যক্তিগত ব্যয় হবে জামানতের ক্যাটাগরি অনুসারে। ১৮, ২৩, ২৮, ২৯, ৩১, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪৭ ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য জামানত ৩০ হাজার টাকা এবং বাকি ওয়ার্ডগুলোর জন্য ৫০ হাজার টাকা জামানত ধার্য করা হয়েছে। ক্যাটাগরি অনুসারে হবে নির্বাচনী ও ব্যক্তিগত ব্যয়।

এ সিটিতে সবচেয়ে বেশি ভোটার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে- ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৭ জন। ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৩০৩ জন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৬৮, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৯০, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ১ লাখ ১ হাজার ৫২৬ এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ১৭১ জন। এ সিটিতে সবচেয়ে কম ভোটার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে, মাত্র ১১ হাজার ৭৮১ জন।

ডিএসসিসির ৩৭, ৬৯, ৭০ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে সবচেয়ে কম ভোটার হওয়ায় এ চারটি ওয়ার্ডের জন্য সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর জামানত ধার্য করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এ ক’টি ওয়ার্ডের চেয়ে ভোটার বেশি হওয়ায় ৭, ৮, ৯, ১০, ২০, ২১, ২৫, ২৭, ২৮, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৪, ৩৫, ৩৯, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৫২, ৫৯, ৬৪, ৬৭, ৬৮, ৭১, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীর জামানত ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর ১, ৩, ৫, ৬, ১১, ১২, ১৩, ১৭, ১৮, ১৯, ২৩, ২৪, ২৬, ২৯, ৩৩, ৩৬, ৩৮, ৪০, ৪৫, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৭, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৫ ও ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার বিবেচনায় জামানত ৩০ হাজার টাকা এবং বাকি ওয়ার্ডগুলোতে ৫১ হাজারের বেশি ভোটার থাকায় এসব ওয়ার্ডের জন্য ৫০ হাজার টাকা জামানত ধার্য করেছে কমিশন। ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচনী ও ব্যক্তিগত ব্যয় হবে জামানতের ক্যাটাগরি অনুসারে। এ সিটি কর্পোরেশনে সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৭৮ হাজার ৪২৫ জন এবং সর্বনিম্ন ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ হাজার ২০৮ জন ভোটার।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি এবং প্রত্যাহারের শেষদিন ৯ জানুয়ারি। দুই সিটি নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে। সেদিন সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

Print Friendly, PDF & Email