লক্ষ্মীপুরের হাসানকে নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদন

লক্ষ্মীপুরের ক্রিকেটার হাসান মাহামুদকে নিয়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক প্রথম আলো একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেছে। প্রথম আলো পত্রিকার প্রতিবেদনটি শীর্ষ সংবাদ ডটকম পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:-

বিপিএলে গতি দিয়ে নজর কেড়েছেন ঢাকা প্লাটুনের পেসার হাসান মাহমুদ। এবার বিপিএলে পেসাররা দলে বেশি বেশি সুযোগ পাওয়ায় সন্তুষ্ট ১৪৪ কিমি গতি তোলা এ পেসার।

জহুর আহেমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ ঢাকা প্লাটুনের অনুশীলনের একপর্যায়ে প্যাড পরছিলেন হাসান মাহমুদ। প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন দূর থেকে তাঁকে রসিকতার ছলে জিজ্ঞেস করলেন, ‘প্যাড পরছিস ক্যান?’ হাসান পেসার হলেও শেষ দিকে ব্যাট তো করতে হয়। ইশারায় তাঁকে নেটে যেতে বললেন ঢাকা কোচ।

বিপিএলে এবারই প্রথম খেলছেন হাসান। ঢাকায় তাঁর হাতে অভিষেক টুপি তুলে দিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুতর্জা। এবার বিপিএলে যে কয়জন পেসার গতি দিয়ে নজর কেড়েছেন হাসান তাঁদের অন্যতম। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ঢাকার শেষ ম্যাচে ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার গতি তুলেছিলেন ২০ বছর বয়সী এ পেসার। এরপর থেকেই সংবাদমাধ্যমের নজরটা বেশি করে পড়েছে তাঁর ওপর। ঢাকার অনুশীলন শেষে তাঁকে ঘিরে সংবাদকর্মীদের ভিড় ছিল দেখার মতো।

এবার বিশেষ বিপিএলে অন্যতম নজর কাড়ার বিষয় হলো, প্রায় সব দলই তিনজন করে পেসার খেলাচ্ছে। হাসানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বিপিএলের এ পরিবেশটা অন্যরকম লাগছে কি না? ঢাকার পেসার যা বললেন তাতে সহজ কথায় দাঁড়ায়, পরিবেশ ঠিক আছে, ‘পেসাররা প্রভাব রাখছে। স্পিনাররাও খারাপ করছে না। সবাই দেখছেন পেস বোলাররা ভালোই করছে। ফলে পেসারদের দিকেই নজর দিচ্ছে সব দল।’

এবার বিপিএলে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশের তরুণ পেসার মেহেদী হাসান রানা (৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট)। পরের দুজন পেসারও (একজন মিডিয়াম পেসার) বাংলাদেশের, সৌম্য সরকার ও রুবেল হোসেন। তবে হাসান মনে করেন, এবার তরুণ পেসারদের মধ্যে প্রতিযোগিতাটা স্বাস্থ্যকর, ‘সবাই নিজেদের ধরে রাখতে পারলে ওপরের পর্যায়ে ভালো করতে পারবে।’

লক্ষ্মীপুর থেকে উঠে আসা এ পেসার বয়সভিত্তিক দলের ধাপ পেরিয়ে উঠে এসেছেন এ পর্যায়ে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ঘণ্টায় ১৪০ কিমি গতি তুলেছিলেন তিনি। এবার বিপিএলে বেড়েছে গতি। এখন তা আরও বাড়ানোর কাজ করছেন তিনি। জানালেন সে কথাই, ‘পেসারদের আসলে নিজের যত্ন নিতে হয়। অনুশীলন ঠিকমতো করতে হয়। ঠিকমতো খাবার, বিশ্রাম নেওয়া, পেসারদের গতি বাড়ায় আসলে। অনুশীলনটা গুরুত্বপূর্ণ, শৃঙ্খলার মধ্যেও থাকতে হয়।’

জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামের উইকেট ব্যাটিং-বান্ধব। প্রচুর রান উঠছে প্রায় প্রতি ম্যাচেই। এখানে বল করা পেসারদের জন্য সত্যিই চ্যালেঞ্জ। এমন উইকেটে ভালো বল করলে পেসারদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় বলে মনে করেন হাসান, ‘অবশ্যই চ্যালেঞ্জ ।চট্টগ্রামের উইকেট অনেক ফ্ল্যাট, ব্যাটসম্যানদের পক্ষে যায় সব সময়। তবে আমি মনে করি এটা ভালো চ্যালেঞ্জ। কারণ ব্যাটিং উইকেটে পেসাররা ভালো করলেন আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ফলে যখনই ওরা ভালো উইকেট পায়, ভালো করে।’

হাসানের বোলিং অ্যাকশন বেশ মসৃণ। দৌড় থেকে জাম্প এবং বল করার পর ফলো থ্রু বেশ ভালো। কায়দাটি রপ্ত করেছেন নিজ থেকেই। এমনিতে তিনি এখন বোলারদের মধ্যে অনুসরণ করছেন প্যাট কামিন্স, লকি ফার্গুসনদের, ‘বোলিং অ্যাকশন আসলে নিজ থেকেই আসে। পেসারদের মধ্যে স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, ফার্গুসনদের অনুসরণ করি, যারা একটু জোরে বল করে, ওদের বোলিং দেখি। ওদের থেকে অনুপ্রাণিত হই।’

অল্প বয়সেই টি-টোয়েন্টিতে বোলিংয়ের কৌশলটা বেশ রপ্ত করে ফেলেছেন হাসান। শুধু গতি নয় বৈচিত্র্য আনাটাও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ, ‘টি-টোয়েন্টিতে বৈচিত্র্য আনাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনি সব সময় জোরে বল করে তো আর বাঁচতে পারবেন না। ব্যাটসম্যান সব বলেই মারতে পারবে যদি শুধু জোরে বল করেন। এ জন্য বৈচিত্র্য আনাটা খুব দরকার।’

কাঁচা বয়সেই সংবাদমাধ্যমের নজরে পড়া নিয়ে হাসানের কাছে দর্শনটাও পরিষ্কার, ‘ভালো খেললে প্রশংসা হবে। এ প্রশংসা ধরে রাখাই আসলে প্রধান বিষয়।’

Print Friendly, PDF & Email