লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের জন্য গৃহবধুকে নির্যাতন করলো সেনা সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের ১০ লাখ টাকা এনে না দেওয়ায় সোহাগী আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধুকে মারধর ও নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে এক সেনা সদস্যে বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে পৌর শহরের বাঞ্চানগর গ্রামের রেহান উদ্দিন ভূঁইয়া সড়কের ওয়াছ মিয়া মিঝি বাড়ি সংলগ্ন পারভীন ভিলা থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত সেনা সদস্যের নাম কামরুল হাসান জুয়েল। তার পিতার নাম আবুল বাসার। তিনি বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ঢাকা গাজীপুর ক্যাম্পের একজন সৈনিক (ব্যাচ নং- ৫২১৩৫৩, সেনা নং-৪০৪২৫৫৬)।
আহত গৃহবধুর স্বজন সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চর রুহিতা গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে সোহাগী আক্তার। ২০১৬ সালে পৌর শহরের বাঞ্চানগর গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে (সেনা সদস্য) জুয়েলের সাথে তার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের সংসারে ২ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন ১০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দেয় গৃহবধুকে। এনিয়ে প্রতিনিয়তই সেনা সদস্য জুয়েল ছুটিতে বাড়িতে এলেই গৃহবধুকে মারধর ও নির্যাতন করতো। ঘটরদিন শুক্রবার রাতে ওই গৃহবধুকে বাড়ির ছাদে ডেকে নিয়ে বাবার বাড়ি থেকে ১০লক্ষ টাকা ও একটি ফ্রিজ কিনে আনার জন্য বলে সে। এসময় টাকা আনতে অপারগতা প্রকাশ করলে গৃহবধুকে মারধর ও শারীরীক নির্যাতন করে গুরুত্বর আহত করে। পরে খবর পেয়ে গৃহবধুর স্বজনরা স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে আহত গৃহবধু সোহাগী বলেন, গরীব ঘরে জন্মেছি এটাই কি অপরাধ? প্রতিনিয়তই টাকার জন্য স্বামী ও শাশুড়িরর হাতে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন তিনি।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত সেনা সদস্য কামরুল হাসান জুয়েল যৌতুকের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, বাসায় সোহাগী নিজের ইচ্ছে মত চলে। কারো কথা শুনে না। তাই ১-২টা চোড় মেরে শাসন করেছি। যৌতুক চাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থান নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email