‘নির্ভয়া’র ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড বহাল

বিশ্বের কাছে ‘নির্ভয়া’ নামে পরিচিত ভারতের এক মেডিকেল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় চার অভিযুক্তের মধ্যে অন্যতম একজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সর্বোচ্চ আদালতের তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানান, রায় পর্যালোচনার কোনো সুযোগ নেই।

অভিযুক্ত অক্ষয় সিং এক সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বিচারপতিরা। খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।

‘রিভিউ পিটিশন বারবার করা আপিলের পুনঃশুনানি নয়,’ মন্তব্য করে মামলাটির শেষ পিটিশনটি খারিজ করে দেন বিচারকদের বেঞ্চ, জানিয়েছে এনডিটিভি।

অক্ষয় সিংয়ের আইনজীবী এপি সিং আদালতে অভিযোগ তুলে বলেন, গণমাধ্যম ও জনতার চাপেই অক্ষয়কে মামলায় জড়ানো হয়েছে। মৃত্যুর আগে দেওয়া নির্ভয়ার জবানবন্দি ‘সন্দেহজনক ও তার ওপর নির্ভর করা যায় না’ বলেও দাবি করেন তিনি। তাকে মামলায় ‘জড়ানোর ক্ষেত্রে চাপের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে’ এবং মৃত্যুর আগে দেওয়া নির্ভয়ার জবানবন্দি নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তিনি ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য বলে দাবি করেন অভিযুক্ত অক্ষয়। ‘আসল অপরাধীদের’ ধরার ক্ষেত্রে বার্থ্যতার কথাও বলেন তিনি।

এসব তর্কের জবাবে রিভিউ পিটিশনে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুষার মেহতা বলেন, ‘কোনো ক্ষমা অভিযুক্তের প্রাপ্য নয়। এ ধরনের দানব তৈরি করার জন্য খোদাও লজ্জা পাবে। যে ধরনের অপরাধে ‘মানবতা কেঁদে ওঠে’ এটা সেই ধরনের মামলা।’ এর আগে এই মামলায় অভিযুক্ত আরো তিন জন- মুকেশ (৩০), পবন গুপ্তা (২৩) ও বিনয় শর্মার (২৪) রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করেছিলেন আদালত।

নির্ভয়ার ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে চারজন দোষী সাব্যস্ত হন। রাম সিং নামের একজন কারাগারে থাকাকালে আত্মহত্যা করেন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক এক অভিযুক্ত তিন বছর সংশোধনাগারে থাকার পর মুক্তি পান।

প্যারামেডিকের ছাত্রী ২৩ বছর বয়সী নির্ভয়াকে ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ দিল্লিতে চলন্ত একটি বাসের ভেতরে দলগতভাবে ধর্ষণের পর নির্দয়ভাবে নির্যাতন করা হয়। এরপর নগ্ন অবস্থায় চলন্ত বাস থেকে তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। সংকটজনক অবস্থায় বেশ কয়েকদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান নির্ভয়া।

Print Friendly, PDF & Email