বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ভারত

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং এনআরসি-র বিরোধিতায় ভারত জুড়ে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। হাজার হাজার মানুষ ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে দিল্লি থেকে হায়দরাবাদ, মহারাষ্ট্র থেকে কর্নাটক-সর্বত্র রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। এ বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে আটক হয়েছেন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাত-সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

বুধবার রাত থেকেই ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিল প্রশাসন। চারজনের বেশি লোকের জমায়েতের ওপর জারি করা হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। তবে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে রাজ্যে রাজ্যে সম্মিলিত বিক্ষোভের সাক্ষী থাকল গোটা ভারত।

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে গিয়ে বেঙ্গালুরুতে আটক হয়েছেন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ। টাউন হলের বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন তিনি। তাঁকে রীতিমতো টানাহ্যাঁচড়া করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।

আটক হওয়ার পর রামচন্দ্র গুহ বলেন, দেশে স্বৈরতন্ত্র চলছে। হাতে গান্ধীর পোস্টার নেওয়ার জন্য ও সংবাদমাধ্যমকে সংবিধানের বিষয়ে বলার জন্য আমাকে আটক করা হলো।

এদিকে, ১৪৪ ধারাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিল্লিতে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। আগাম সতর্কতা নিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ১৪টি মেট্রো স্টেশন। এর ফলে তীব্র যানজটে পড়েছে দিল্লি-গুরুগ্রাম সীমানা। লাল কেল্লা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে দিল্লি পুলিশ।

যে কোনও রকম বড় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে তা উপেক্ষা করেই এদিন একটি ছাত্র ও সমাজকর্মীদের বিক্ষোভ ও আরেকটি বামদের বিক্ষোভে উত্তাল হয় রাজধানী। হাজার হাজার মানুষ লাল কেল্লার সামনে জড়ো হয়েছে। ব্যারিকেড তৈরি করে মিছিল আটকানোর চেষ্টা চালায় দিল্লি পুলিশ।

লাল কেল্লা এলাকায় বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন স্বরাজ ভারতের জাতীয় সভাপতি যোগেন্দ্র যাদব। তিনি নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।

আটক হওয়ার পর পুলিশ ভ্যানেই সেলফি তুলে টুইটারে পোস্ট করে যোগেন্দ্র যাদব লিখেছেন, ১৯ ডিসেম্বর আটক হতে পেরে আমি গর্বিত। লাল কেল্লা থেকে আমাকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আরও হাজার হাজার বাকি আছে। আমাদের বাওয়ানায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email