টানা ৪ হার, কী হলো গিবসের সিলেট থান্ডারের

কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছে না সিলেট থান্ডারের। দলটি যেন বঙ্গবন্ধু বিপিএলে হারের গর্তে পড়ে গিয়েছে। ঢাকায় পরপর তিনটি ম্যাচে হার। ভাবা হয়েছিল, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গিয়ে অবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু কোথায় কি! উল্টো সিলেট হারের বৃত্তই ভাঙতে পারছে না।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে তারা স্বাগতিক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের কাছে ৪ উইকেটে হেরে গিয়েছে। এ নিয়ে দলটি পরপর চারটি ম্যাচে হেরে গেল। আর ঘরের মাঠে স্বাগতিক চট্টগ্রাম দারুন এক জয় তুলে নিল। এদিন সিলেটের ১২৯ রান চট্টগ্রাম ১৮ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়েই টপকে গিয়েছে।

অবশ্য ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাহমুদউল্লাহর দলের শুরুটা হয়েছিল নড়বড়ে। ২৪ রানের মাঝেই ফিরে যান আভিস্কা ফার্নান্দো (৫) ও ইমরুল কায়েস (৬)। স্বভাবতই এখান থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব বর্তেছিল অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর কাঁধে। কিন্তু ২ রানে ইবাদত হোসেনের বলে বোল্ড হয়ে অধিনায়ক সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন। এরপর বড় জুটি গড়ার আগেই ফিরে গেলেন চ্যাডউইক ওয়ালটন (৯)। ৫৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলা চট্টগ্রাম শিবিরে তখন হারের শঙ্কা উঁকি দিচ্ছে।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে নিজের কাজটা ঠিকই করে গেলেন লেন্ডল সিমন্স। স্কোরবোর্ডে যখন ৮৪ রান তখন তিনি দূর্ভাগ্যবশত রান আউট হয়ে যান। তার আগে ৩৭ বলে তিন চার-ছক্কায় খেলেন ৪৪ রানের ইনিংস। পরের ওভারেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন মুক্তার আলী (০)। ফলে ৬ উইকেটে ৮৫ রানে পরিণত হয় চট্টগ্রাম। অবশ্য বাকি পথ পাড়ি দিতে আর কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি স্বাগতিকদের। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান (২৪ বলে ৩৭) এবং কেশরিক উইলিয়ামস (১৭ বলে ১৮) চট্টগ্রামের জয় নিয়ে তবেই মাঠ ছেড়েছেন। ১৩ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট পেয়েছেন ক্রিসমার সান্তোকি।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমেছিল সিলেট। ১৩ রানে আউট হয়ে যান রনি তালুকদার (২)। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করা এই ব্যাটসম্যান এখনো নিজেকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। ২৩ রানে মাথায় ফিরে যান আফগান শফিকুল্লাহ শফিক (৬)।

এরপর সিলেটকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন ক্যারিবিয়ান আন্দ্রে ফ্লেচার। তবে থিতু হয়েও ক্যারিবিয়ান ওপেনার লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি। ফ্লেচারের ব্যাট থেকে এসেছে ৩২ বলে ৩৮ রান। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়েছে সিলেটের। মোহাম্মদ মিঠুন ১৫ আর জনসন চার্লস ৩ রানের বেশি করতে পারেননি। ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে থাকা অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন এদিন ৩০ রান করেছেন ২২ বলে। ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান রানা। ২ উইকেট পেয়েছেন রুবেল হোসেন ২৮ রানের বিনিময়ে।

Print Friendly, PDF & Email