সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় কাদের

আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক কাকে করা হতে পারে, আজ বুধবার এ বিষয়ে আগাম ধারণা পেতে পারেন দলের শীর্ষ নেতারা। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পরের মেয়াদে স্বপদে বহাল থাকছেন, নাকি নতুন কেউ দায়িত্ব পাচ্ছেন-এ বিষয়েও আজ নেতারা স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন।

২১তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন শুরু হওয়ার দুই দিন আগে বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ক্ষমতাসীন দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে নতুন কারা আসছেন ও কারা বাদ পড়ছেন নতুন কমিটিতে-এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা ও ইঙ্গিত দলের শীর্ষ নেতাদের দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দলের নীতিনির্ধারক সূত্র মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানায়।

সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে শীর্ষ পদে নতুন কারা আসছেন ও কারা বাদ পড়তে পারেন-এ বিষয়ে সাধারণত ঘনিষ্ঠজনদের প্রতিবারই ধারণা দিয়ে থাকেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। এবার এ ধরনের ইঙ্গিত বা ধারণা দলের শীর্ষ নেতারা গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত পাননি। দলীয় সভাপতি এ নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনা করেননি।

অন্যান্য বছরের সম্মেলনগুলোয় সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন, তা আগেভাগে আঁচ করা গেলেও চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে এবারের পরিবেশ যেন কিছুটা ভিন্ন।

সূত্র জানায়, দেশের অন্যতম এতিহ্যবাহী ও প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা দলীয়প্রধানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব কাউন্সিলরদের হলেও তারা বরাবরই এ দায়িত্ব তুলে দেন সভাপতির কাঁধে। সাধারণ সম্পাদক পদে সাম্প্রতিক অতীতে নির্বাচন হয়নি, সমঝোতার মাধ্যমেই নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। এবারো এর ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সম্মেলন সামনে রেখে সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় উঠে এলেও দলের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কাউন্সিল অধিবেশনে কেউ প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন না। তাই দলের আগামী সাধারণ সম্পাদক কে হবেন, তা নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভাপতির সিদ্ধান্তের ওপর।

অন্যদিকে আজ সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে কার্যনির্বাহী সংসদের সভা হবে বলে নিশ্চিত করেন দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

শীর্ষ নেতারা আশা করছেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আজকের সভায় তারা দলের আগামী নেতৃত্বের বিষয়ে ধারণা পাবেন। ধারণা পাওয়া গেলেও দলের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, এমন জিজ্ঞাসার নিশ্চিত উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ২১ ডিসেম্বর, শনিবার অর্থাৎ দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অধিবেশন পর্যন্ত।

২০ ডিসেম্বর, শুক্রবার সম্মেলনের উদ্বোধনের পরদিন শনিবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনের আয়োজন হবে। সেখানেই দলের ৮১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দলের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পর ধাপে ধাপে কমিটি ঘোষিত হলেও এবার একসঙ্গে একই দিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

তথ্যমতে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের হাল ধরার পর থেকে প্রায় চার দশক ধরে প্রতিবার কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে দলের দ্বিতীয় শীর্ষ পদ সাধারণ সম্পাদক নিয়ে আলোচনা বেশি থাকে।

এবারের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কে হচ্ছেন দলের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক, এ প্রশ্ন এখন খুব বেশি আলোচিত। এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও সমীকরণ থেমে নেই কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলেও।

দলের সভাপতি ছাড়া অন্যান্য শীর্ষ পদে এবার পরিবর্তন আসতে পারে বলে আলোচনা থাকলেও সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকছেন বলে আলোচনা ও গুঞ্জন জোরালো হয়ে উঠছে। দলে তার ঘনিষ্ঠজনসহ প্রভাবশালী একটি মহল তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে আবারো দায়িত্বে দেখতে আগ্রহী।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খুবই দক্ষতার সঙ্গে দল ও মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাকে পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না।

যেসব কারণে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসার কথা, তেমন কিছু ঘটেনি। একটা সময় বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ থাকলেও তিনি এখন সুস্থ।’

কাদেরসহ সাধারণ সম্পাদক পদে পাঁচ থেকে ছয়জনের নাম এখন পর্যন্ত আলোচনায় আছে। ওই পাঁচ-ছয়জনের মধ্য থেকেই কেউ একজন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন, এটা নিশ্চিত করেই বলছেন কোনো কোনো শীর্ষ নেতা।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামও এবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় আছে।

তাদের মধ্য থেকে সভাপতির পরে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ সাধারণ সম্পাদকের গুরু দায়িত্ব কার হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে, এর ইঙ্গিত আওয়ামী লীগের আজকের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দিতে পারেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্র বলছে, অতীতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব যারা পালন করেছেন, তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও আবদুল জলিল এক মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বাকিরা এ পদে কয়েক মেয়াদে থেকেছেন। এক-এগারোর মতো বিশেষ পরিস্থিতি থেকে সৃষ্ট রাজনৈতিক দুর্যোগের কারণে জলিল এক মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলেও অনেকে মনে করেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে পাঁচবার দায়িত্ব পালন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন আহমদ তিনবার, জিল্লুর রহমান চারবার, আবদুর রাজ্জাক দুইবার, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দুইবার ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দুইবার।

ওবায়দুল কাদের এক মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক। দলের অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তাকে আবারো এ পদে রাখা হতে পারে। কিছু কারণ মিলিয়ে অনেকে মনে করেন, ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক পদে আবারো রাখা হতে পারে।

অনেকে বলছেন, শুধু সভাপতি ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য যেকোনো পদে পরিবর্তনের আভাস দলের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে আগেই নানাভাবে দেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email