আলিগড়-জামিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত সব গুরুদ্বারের দরজা

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে বর্তমানে উত্তাল দেশটির বিভিন্ন রাজ্য। সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পুলিশের নির্বিচারে লাঠিচার্জের ঘটনায় সোচ্চার হয়েছে পুরো দেশ।

গত রবিবার আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এ নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভ থামাতে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে ছাত্রীদের হোস্টেল ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে। ঠিক তখনই বহু মানুষ মানবিক সাহায্যের জন্য তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

গত রবিবার দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলে বিক্ষোভে অংশ নেয় আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ১৫ জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। আহত হন অনেকেই।

তার পরই সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় ছাত্রীদের হোস্টেল খালি করে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বাসে করে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছাত্রীদের দিয়ে আসার কথা জানায়। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠছে, সন্ধ্যা ৭টায় ৩০ কিলোমিটার এগিয়ে দিলেই কি ছাত্রীরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন?

আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা। সেখানে ৩০ কিলোমিটার কতটাই বা দূরত্ব? ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে তাই অনেকেই চিন্তা ব্যক্ত করেছেন। আর ঠিক সেই সময় পারমিন্দর সিং নামে এক টুইটার ব্যবহারকারী সাহায্যের বার্তা দিয়ে একটি টুইট করেছেন।

তাতে তিনি লিখেছেন, যে সমস্ত শিক্ষার্থীকে সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য হোস্টেল খালি করে চলে যেতে হচ্ছে, তাদের বলব আপনার কাছাকাছি যে কোনো গুরুদ্বারে যোগাযোগ করুন। সেখানেই থাকতে পারবেন।

রাজনীতির জন্য নয়, টুইটটি মানবিকতার খাতিরে করা বলেও তিনি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন শহরের গুরুদ্বারের তালিকাও তিনি তুলে দিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email