ভুলভাবে কারও নাম এলে বাদ দেওয়া হবে

সরকার প্রকাশিত কথিত ‘রাজাকারদের তালিকা’ নিয়ে দেশে ব্যাপক অষন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয়েছে এই তালিকা। এই কথিত তালিকায় ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এমনকী ভাষাসৈনিকদের নাম তুলে দেওয়া হয়েছে!

তারই প্রেক্ষিতে আজ মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে দু:খ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় ভুলভাবে কারও নাম এসে থাকলে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ‘রাজাকার, আল-বদর,আল-শামস, শান্তিকমিটি ও স্বাধীনতাবিরোধী তালিকা বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর ব্যাখ্যায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, শান্তি কমিটি ও স্বাধীনতাবিরোধী ১০ হাজার ৭৮৯ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নতুন কোনো তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা থেকে যেভাবে পাওয়া গেছে, সেভাবেই প্রকাশ করা হয়েছে।

‘অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ তালিকায় বেশ কিছু নাম এসেছে, যারা রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, শান্তি কমিটি বা স্বাধীনতাবিরোধী নন, বরং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বা মুক্তিযোদ্ধা।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো ব্যক্তির নাম তালিকায় কীভাবে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘প্রকাশিত তালিকায় ভুলভাবে যদি কারও নাম এসে থাকে, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই অন্তে তার/তাদের নাম এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এই অনিচ্ছকৃত ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

সম্প্রতি প্রকাশিত রাজাকারের এই তালিকায় অনেক জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষের নামও এসেছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার তৈরি হয়। এরই মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এই ব্যাখ্যা দিলেন।

ভুল-ভ্রান্তি অনেক বেশি হলে এ তালিকা প্রত্যাহার করা হবে বলেও সোমবার সকালে শিল্পকলা একাডেমীতে এক অনুষ্ঠান শেষে জানান মন্ত্রী।

Print Friendly, PDF & Email