লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতাকে ফাঁসাতে এক ব্যবসায়ীর কান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতাকে ফাঁসাতে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের নাটোক করার অভিযোগ উঠেছে আবু নোমান খোকনের বিরুদ্ধে। এছাড়াও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর মিথ্য অভিযোগ তোলেন তিনি। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে সদর উপজেলার পুরাতন তেওয়ারীগঞ্জ বাজারের ইকরা এন্টার প্রাইজ নামের দোকানকে ঘিরে এমন অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, খোকন একই এলাকার আবু ছিদ্দিকের ছেলে। তিনি স্থানীয় হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন কাম নৈশ প্রহরী হিসেবে কর্মরত আছেন। অপরদিকে ভূক্তভোগী যুবলীগ নেতা অনুপম সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক। এছাড়াও তিনি হোসেনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য।
যুবলীগ নেতা আল মাহামুদ ইবনে হুছাইন (অনুপম) অভিযোগ করে বলেন, ব্যবসায়ী আবু নোমান খোকন জালিয়াতির মাধ্যমে হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহায়কের চাকুরী নেয়। এরপর থেকে সে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে অসদাচরণ করে আসছে। তাছাড়া খোকনের স্ত্রী তোফাতুননুর স্থানীয় হিরামন বাজার পোষ্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়েও বাংলাদেশ সরকারের ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় কমিউনিটি ক্লিনিকে চাকুরী করছেন। যে সময় তার পোষ্ট অফিসে থাকার কথা তা না থেকে সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিকে থাকছে। ফলে তেওয়ারীগঞ্জ, মান্দারী ও কুশাখালী ইউনিয়রে ৪০ হাজার মানুষ ডাক কার্যক্রম সুবিধা থেকে বঞ্চিত হ”্ছনে। খোকন ও তার স্ত্রীর এসব অনিয়ম সমাজে জানাজানি হলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবীর প্রেক্ষিতে এসব অনিয়মের প্রমানসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি খোকন জানতে পেরে স্ত্রী এবং নিজেকে রক্ষায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজী ও ভাঙচুরের নাটোক মঞ্চস্থ করে ।
এসময় তিনি আরো বলেন, দোকান ভাঙচুরের ঘটনা পুরান তেওয়ারীগঞ্জ বাজার ঘটেছে কিনা তা আমার জানা নেই। অভিযুক্ত সময়ে আমি নিজের কৃষি খামারে কাজ করছিলেন।
এদিকে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে আবু নোমান খোকন বলেন, গত ৩ নভেম্বর প্রধান শিক্ষককে মারধর করতে অনুপম বিদ্যালয়ে আসে। শিক্ষক ছুটিতে থাকায় অনুপম আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। একপর্যায়ে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেয় সে। এর কিছুদিনপরই যুবলীগ নেতা আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ভয়ে কয়েকদিন কিছুদিন পলাতক ছিলাম। চাঁদা না পেয়ে অনুপম আমার দোকান ভাঙচুর করে। এসময় আমি শ্বশুর বাড়িতে ছিলাম।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email