সিরিয়ায় বিমান হামলা, নিহত অন্তত ১৮

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে দেশটির সরকারি বাহিনী তাদের মিত্র রাশিয়ার সেনাদের বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। ইদলিব প্রদেশ সশস্ত্র বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশটির সর্বশেষ অঞ্চল। ওই এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এমন দাতব্য সংস্থার বরাতে এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা।

গত সপ্তাহ থেকে ইদলিবে হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। উত্তরের শহর আলেপ্পো থেকে রাজধানী দামেস্ক পর্যন্ত মহাসড়কটি সুরক্ষিত করতেই ইদলিবের উত্তরে ব্যাপক হামলা শুরু করে দেশটির সরকারি ও তাদের মিত্র বাহিনীর সেনারা। সেটি সিরিয়ার সবচেয়ে বড় মহাসড়ক এবং একসময় এটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।

সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স হিসেবে পরিচিত দেশটির অন্যতম দাতব্য সংস্থা ‘দ্য হোয়াইট হেলমেটস’ বলেছে শনিবার ইদলিবের ওই বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে দেশটিতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস নিহতের সংখ্যা ২০ বলে জানিয়েছে।

শনিবার এক টুইট বার্তায় হোয়াইম হেলমেটস লিখেছে, ‘রাশিয়া ও সিরিয়া সরকারের যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে যে হামলা চালিয়েছে তাতে সকাল থেকে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ছাড়াও পুরো পরিবারের লোকজনও আছেন। নিরীহ মানুষের ওপর এসব হামলার মাধ্যমে গণহত্যা চালানো হয়েছে।’

হোয়াইট হেলমেটস জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বালিয়ুন নামক গ্রামে, সেখানে আটজন ছাড়াও এক শিশু ও দুই নারীসহ বিদ্রোহী অধ্যূষিত গ্রাম বারাতে অন্তত চারজন নিহত হন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী এই উদ্ধারকারী সংস্থাটি ইবদেইতা নামক গ্রামে ৫ জন ও পাশের একটি গ্রামে এক শিশু নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।

তবে সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে শনিবার ইদলিব প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও মিত্র রাশিয়ার সেনাদের যৌথ এই বিমান হামলার কোনো খবরই জানানো হয়নি। এদিকে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, গতকালের ওই হামলায় আট শিশু নিহত হয়েছে।

সরকারি অভিযানে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। চলতি বছরের আগস্টে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তা লঙ্ঘন করে হামলার ঘটনা ঘটছেই। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ‘প্রতি ইঞ্চি জমি’ দখলে নেয়ার কথা জানিয়েছেন। তার সরকারের বিরুদ্ধেই ২০১১ সালে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।

Print Friendly, PDF & Email