লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের অফিস সহকারী মাহবুব আবারও বেপরোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মানুষের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থেই সড়ক পরিবহন আইন। সাধারণ মানুষ সে আইন মেনে চলতে পরিবহন অনুমোদপত্র (লাইসেন্স)’র জন্য স্বরণাপন্ন হচ্ছেন বিআরটিএ কার্যালয়ে। আর এ সুযোগেই লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে গ্রাহকদের উপর চালানো হয় অরাজগতা। দালাল ও টাকা ছাড়া গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনে অকারণে হয়রানি, প্রাথমিক লার্নার কার্ড পেতে বকশিস, পরীক্ষার সিরিয়াল নাম্বারে নিতে ভোগান্তিসহ সেবা প্রত্যাশিদের সাথে অশৌভনীয় আচরণের অভিযোগ ক্ষোদ সেই অফিস সহকারী মাহবুবের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, এর আগেও চলতি বছরের ৫ মে মঙ্গলবার দুদকের অভিযানে দালাল ও টাকা ছাড়া সেবা না দেওয়ার অভিযোগের প্রমান মেলায় অফিস সহকারী মাহবুবকে আটক করা হয়। যদিও প্রাথমিক সর্তকতা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় নোয়াখালী অঞ্চলের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপরও সুধরায়নি সেই অফিস সহকারী মাহবুব। আবারও অনিয়ম দুর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়ে দুই কর্মকর্তার দুই’টি কক্ষে তালা ঝুলছে। দীর্ঘ সিরিয়ালে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ড্রাইভিং লাইসেন্স লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের রোল নং এর জন্য সেবা প্রত্যাশীরা। একটি টেবিলে বসে অফিস সহকারী মাহবুব সেবা প্রত্যাশিদের সাথে উত্তেজিত কণ্ঠে অশৌভনীয় আচরণ করছেন। আবার কারো সাথে মারমুখি অবস্থা। এসময় কয়েকজন দালালকেও তার টেবিলের আশপাশে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সেবা প্রত্যাসীদের ফিরত যেতেও দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রতাশী জানান, এ কার্যালয়ে মাহবুবই সব। দালাল ছাড়া পাত্তাই পাওয়া যায় না। উপরে দালাল মুক্ত বলে প্রচার করে ঠিকই, বিকেলে সব কাজ দালালদের সাথে ভাগাভাগি করা হয়। তাছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রাথমিক লার্নার কার্ড নিতেও তাকে টাকা দিতে হয় বলে তাদের অভিযোগ।

স্থানীয় ও সেবা প্রত্যাশীরা জানান, লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয় মনে হয় অফিস সহকারি মাহবুবের ব্যক্তিগত চেম্বার। যত অনিয়ম ও ভোগান্তি সব এখানেই। সঠিক কোন তথ্য সেবা পাওয়া যায় না, দালাল ও টাকা ছাড়া গাড়ির কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করতে হয়রানির শিকার করে সে। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও সামান্য ক্ষুদ দেখিয়ে কাগপত্র ছুড়ে মারে গ্রাহকের শরীরে। কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে চাইলেও তার বাঁধায় সম্ভব হয় না। তাই গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে অনিয়ম দূর্নীতিগ্রস্থ অফিস সহকারী মাহবুবের প্রত্যাহার দাবী করেন তারা।

তবে লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের অফিস সহকারী মাহবুব বলেন, এখন কোন কথা বলা যাবে না। পরে আসলে কথা বলবো। তবে কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও পরিদর্শক কোথায় জানতে চাইলে অফিস সহকারী জানান তারা এখনো অফিসে এসে পৌছায়নি।

এ সময় লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিজ দপ্তরে উপস্থিত না থাকায় অনিয়মের বিষয় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email