লক্ষ্মীপুরে জনপ্রতিনিধির দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সহায়তা কার্ড পায়নি শিউলি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পূর্ব চাঁদখালি গ্রামের বাসিন্দা শিউলি আক্তার। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০০৯ সালে স্বামী আবদুর রহিম মারা যান। এরপর থেকে সন্তানদের সুশিক্ষিত আর পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরাতে একাই চালিযে যান সংগ্রাম।

তিনি অন্যর বাড়িতে ঝি’য়ের কাজ থেকে শুরু করে ফসলের জমিতে কৃষি কাজ করেছেন। টাকা আয় করলেই করতেন রান্না। অন্যথায় থাকতেন দুই সন্তান আর শ্বাশুড়িকে নিয়ে উপাস। হাজারো কষ্টের পরও শিউলি পায়নি সরকার অথবা স্থানীয় ধর্ণাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা। হয়তো সহযোগিতা পেলে কিছুটা কষ্ট লাগব হতে পারতো এই বিধবার। যদিও তিনি একটি সহায়তা কার্ডের জন্য কয়েকবারই গিয়েছেন জনপ্রতিনিধির কাছে।

জানা গেছে, শিউলি আক্তার সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব চাঁদখালি গ্রামের বশির আহমদের ছেলে আবদুর রহিমের স্ত্রী। আখি আক্তার ও ইয়াসিন আরাফাত নামে দুইটি সন্তান রয়েছে তাঁর। বর্তমানে বিধবার এই নারী শ্বাশুড়ি ছাম্পা বেগম (৭২) ও সন্তানদের নিয়ে থাকছেন একটি খুবড়ি ঘরে।

শিউলি আক্তার শীর্ষ সংবাদকে বলেন, সন্তানদের সুশিক্ষিত ও স্বচ্ছলতার জন্য স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মেয়ে বলে সঠিক পারিশ্রমিক পাননা তিনি। এছাড়াও শাশুড়ির জন্য বয়স্ক ভাতা ও বিধবা অথবা দুস্থ কার্ডের জন্য কয়েকবারই গিয়েছেন স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছে। কিন্তু সবাই তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন খালি হাতে। বহুকষ্টে বর্তমানে দিনযাপন করছেন শিউলি। নিজে পঞ্চম শ্রেণী পাস না করলেও সন্তানকে করবেন উচ্চ শিক্ষিত। এমনটি স্বপ্ন শিউলির। এজন্য শত কষ্ট করতে প্রস্তুত তিনি। তবে সরকার ও ধনীদের সহযোগিতা ফেলে কষ্ট কিছুটা কম হতো বলে তিনি মনে করেন।

বিধবা এ নারীর মেয়ে আখি আক্তার ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ছেন বাইশমারা মডেল একাডেমীতে। সেখানে তার রোল তিন।

আখি শীর্ষ সংবাদকে বলেন, পড়ালেখায় মনোযোগি হয়ে মায়ের স্বপ্ন পুরন করাই তার লক্ষ্য। সুশিক্ষিত হয়ে সমাজের দুস্থদের সাহায্য করতে চায় সে। যেন টাকার কারনে কোন পরিবারকে কষ্টে দিন কাটাতে না হয়।

ক্ষুদা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের বরাদ্ধকৃত সহায়তাগুলো সুষ্টভাবে বন্টন হয়না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ হোসেন। এজন্য সহায়তাগুলোর সঠিক বন্টন ও বরাদ্ধখেকো অসাধু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

লাহারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মশু পাটোয়ারী বলছেন বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে আবেদন করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রেদোয়ান আরমান শাকিল শীর্ষ সংবাদকে বলেন, বরাদ্ধকৃত সরকারি সহায়তাগুলো বন্টনে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পাশাপাশি সহায়তা বঞ্চিত এই নারীর আবেদন ফেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ফরহাদ হোসেন/শীর্ষ সংবাদ/লক্ষ্মীপুর।

Print Friendly, PDF & Email