লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে অপরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন ব্যবস্থা : দুর্ভোগে রোগী (পর্ব ৩)

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে সুপ্রেয় পানি সংকট তীব্র আকাঁর ধারণ করেছে। এছাড়াও অপরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন ব্যবস্থায় চরম দূর্ভোগে রয়েছে রোগী ও স্বজনরা। রবিবার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতল গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের প্রভাবে ভারি বর্ষন ও টানা বৃষ্টিতে পানি জমে রয়েছে দাবী করে বিদ্যুত না থাকায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল এলাকা পানিবন্দি হয়ে আছে। জমা পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। এতে এ্যাম্বুলেন্সসহ যাত্রীবাহী ছোট গাড়ি যাতায়াতে হাসপাতাল এলাকায় পানির ঢেউয়ে নদীতে পরিণত হয়ে আছে। এতে ভোগান্তিতে রয়েছে হাসপাতালে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা।

অপরদিকে সকাল থেকে সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎ ও পানি সংকট দেখা দেয়। এতে আলোর সংকটে মোমবাতি ও ফোনলাইট ব্যবহার করতে হয় রোগীর স্বজনদের। পানি সংকটের কারণে হাসপাতলের বাহির থেকে পানি কিনে এনে খাওয়া ও ব্যবহারের কাজ করতে হচ্ছে রোগীদের। এছাড়াও হাসপতালের টয়লেট গুলো অপরিচ্ছন্ন ও ময়লা আবর্জনায় একাকার হয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রোগী ও স্বাজনরা ব্যবহার করতে পারছে না টয়লেট। কোনায় কোনায় জমা করে রাখা হয়েছে ময়লা আবর্জনা ও পচা খাবার। এতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে আছে।

স্ত্রী ও নবজাতক নিয়ে তিনদিন ধরে হাসপাতালে আছেন শহরের শেখ রাসেল সড়ক এলাকার মহিন উদ্দিন। তিনি জানান, হাসপাতালের টয়লেটগুলো এমন দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন, যেতেই মন চায় না। তাছাড়া সকাল থেকে বিদ্যুৎ ও পানি সংকটের কারণে আরো ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আলোর অভাবে মোমবাতি ও ফোন লাইট ব্যবহার করতে হচ্ছে। পানি সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে বাহির থেকে ৫ লিটার পানি কিনে খাওয়া ও প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়েছে।

ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত দেড় বছর বয়সী শিশু শামিমকে নিয়ে ৫ দিন ধরে হাসপাতালের গাইনি ও শিশু বিভাগে ভর্তি আছেন। বেড না পেয়ে ফ্লোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন শহরের মিয়া রাস্তার মাথা এলাকার সামিয়া বেগম। পাশের বেডে ভর্তি ১১ বছর বয়সী শিশু ইভার মা কুলসুম বেগম। তারাও একই সমস্যার কথা জানান।

স্থানীয়রা জানায়, হাসপাতাল এলাকার বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনা রয়েছে। প্লাবিত পানিতে আবর্জনা মিশে একাকার হয়ে আছে। হাসপাতালে আগত সবাই এসব ময়লা পানিতে চলাচল করতে গিয়ে চর্মজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়াও আশঙ্কা রয়েছে। তাই হাসপাতাল আঙ্গিনা পরিষ্কার পরিচচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেত হওয়ার অহ্বান জানান তারা।

সদর হাসপাতালের ব্রাদার ও নার্সরা জানান, হাসপাতালে শর্য্যা সংখ্যার তুলনায় রোগী অধিক। তাছাড়া গড়ে প্রতিদিন প্রতি ওয়ার্ডে ৮০-১০০ রোগী ভর্তি থাকে। সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট দেখা দেয়। এতে সকলকেই বিপাকে পড়তে হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মো. আনোয়ার হোসেন জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে পানি সংকট দেখা দেয়। বিদ্যুতের সরবরাহ পেলে পানি সংকট থাকবে না। তবে হাসপাতাল এলাকা পানি বন্দির বিষয়ে তিনি জানান, আড়াই’শ শর্য্যা হাসপাতালের ভবন নির্মাণের কারণে পানি নামতে দেরী হচ্ছে। তবে দ্রুত বৃষ্টির পানি নেমে যাবে বলে জানান তিনি।