ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত : লক্ষ্মীপুরসহ যেসব জেলায় ১১ ও ১২ নভেম্বর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত মোকাবেলায় লক্ষ্মীপুরসহ  উপকূলীয় জেলাগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১ ও ১২ নভেম্বর শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে কিন্তু শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হবে প্রতিষ্ঠানগুলো।

খোলা রাখার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, উপকূলীয় ১৪ জেলা লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের মানুষ যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে পারেন এবং তাদের চিকিৎসাসহ অন্যান্য সেবা দেয়া যায়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উপকূলীয় এলাকার প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল ও কলেজ এবং মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সারাদেশে জেএসসি ও জেডিসির ৯ ও ১১ নভেম্বরের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। স্থগিত জেএসসির ৯ নভেম্বরের গণিত বিষয়ের পরীক্ষা ১২ নভেম্বর ও জেডিসির গণিত বিষয়ের পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর এবং ১১ নভেম্বরের জেএসসির বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা ১৩ নভেম্বর এবং জেডিসির ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক।

অপরদিকে, শনিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষ এবং এলএলবির পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফয়জুল করিম শুক্রবার (৮ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়ে বলেন, স্থগিত পরীক্ষার তারিখ পরে জানানো হবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিনত হয়েছে। এ কারণে মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রামে মহাবিপদ সংকেত প্রত্যাহার করা হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকায় মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নৌযান চলাচলে ২ নম্বর দূরবর্তী হুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য. (১০ নভেম্বর) রোববার সকাল ৯টার দিকে ঘূর্নিঝড় বুলবুলের তান্ডবে লক্ষ্মীপুরের রামগতির চরগজারিয়া ও তেলিরচরে প্রায় অর্ধশতাধিক কাঁচাঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মোমিন।

এসময় কাঁচাপালা ও ঘরে চাপা পড়ে আহত হয়েছে অন্তত ১০জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চরআবদুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বেলাল হোসেনসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। মূহুর্তের মধ্যে চরগজারিয়া ও তেলির চর এলাকায় ছোট-বড় অন্তত ২৫টি ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। শতাধিক গাঁছপালা উপড়ে ও ভেঙ্গে যায়। এছাড়া নদীর জোয়ারের পানি বেড়ে কিছুকিছু এলাকায় ডুকে পড়েছে। পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।

এ দিকে মেঘনার পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২/৩ ফুট উচ্চতায় বৃদ্ধি পেয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে কমলনগর মাতাব্বরহাট এলাকার নদী তীর রক্ষা বাঁধ। পাশাপাশি বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় রবিশস্য ও ইটভাটার কাঁচা ইটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করছেন জেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয়রা। তবে এখনও আশ্রয়ন কেন্দ্রে নিরাপদে রয়েছে বিভিন্ন চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এসব মানুষদের আশ্রয়ন কেন্দ্র না ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরক্তি উপ-পরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আমন ধান ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির নিরুপনের কাজ চলছে।