আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে তানজিনার চিত্রকর্ম

তানজিনা নাজনীন মিষ্টি। পেশাগতভাবে শিক্ষক হলেও আপাদমস্তক তিনি একজন শিল্পিত মানুষ। পুরোদস্তুর চিত্রশিল্পী। ছবি আঁকার প্রতি তার নেশাটা সেই ছোট বেলা থেকেই। মাঝে বেশ কিছু বছরের লম্বা বিরতি। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একটি সুযোগ আসে কিছুটা সময় ছবি আঁকা শেখার।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন সময়ে ছবি আঁকার উপর তিন মাসের একটি কোর্স করেন। কেননা, রঙ-তুলির নেশাটা কিছুতেই ছাড়তে পারছিলেন না তানজিনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষ করে চাকরি জীবনে প্রবেশের মাঝামাঝি একদিন নিউমার্কেট থেকে রঙ-তুলি, কার্টিজ পেপার নিয়ে বসে গেলেন ছবি আঁকতে। কিন্তু প্রশিক্ষণ কোথায় পাবে? হুম ইউটিউব দেখে দেখে নিজে নিজে ছবি আঁকা শেখা শুরু আবারও।

ক্যানভাসে রঙ-তুলির আঁচড়ে তানজিনা খুঁজে পায় এক দূর্বার গতি। তিনি জলরঙে খোঁজেন জীবনের অব্যক্ত উপলব্ধি। এমনি করে চললো তার কয়েকটা বছর। অবশেষে এলো তানজিনার সাফল্যের হাতছানি। তার আঁকা ছবি নির্বাচিত হয়েছে- Focus Bangladesh কর্তৃক আয়োজিত INTERNATIOANL ART FESTIVAL (4th TUNE OF ART)। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার স্বনামধন্য চিত্রশিল্পীদের আঁকা ছবির সাথে এবার প্রদর্শিত হচ্ছে তার আঁকা ছবিও।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় আজ ৮ নভেম্বর থেকে ১২ নভেম্বর চতুর্থবারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী INTERNATIOANL ART FESTIVAL. এতে প্রকৃতি প্রেমিক নাজনীন মিষ্টির আঁকা ছবিও। এই ছবিটির শিরোনাম হলো- ‘মোরা আর জনমে হংস মিথুন ছিলাম’। জলরঙ-এ আঁকা এই ছবিতে দু’টো হাঁস জল কেলিতে আপন মনে কথা বলে যাচ্ছে, রংয়ের এক অপূর্ব মিলন ঘটেছে তার ছবিতে।

উল্লেখ্য, তানজিনা নাজনীন মিষ্টি ৩৪তম বিসিএস (নন ক্যাডার) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ মকসুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।