লক্ষ্মীপুরে চাঁদা দাবীর অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা দাবীর অভিযোগে ইউসুফ ছৈয়াল নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী (সদর) আদালতে ভুক্তভোগী জেলে শাহজাহান মোল্লা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এতে ওই চেয়ারম্যানেসহ ১০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ২০/২৫জনকে আসামী করা হয়।

বিজ্ঞ আদালতের হাকিম আবদুল কাদের মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত পূর্বক আগামী ১৪ জানুয়ারী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিয়ের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন।

অভিযুক্ত ইউসুফ ছৈয়াল সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়াম্যান ও মৃত মিরাজ উদ্দিনের ছেলে। এছাড়া অন্যান্য আসামীরা হলেন, ওই ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ইয়াকুব ছৈয়াল, আবু ইউছুফ ছৈয়ালের ছেলে কাজল ছৈয়াল, মৃত হামিদ সর্দারের ছেলে জিল্লাল সদ্দার, হামিদ ভূঁইয়ার ছেলে ফিরোজ, এছাহাকের ছেলে অনু, স্থানীয় সালা আহম্মদ, এছাহাক বন্দুসির ছেলে সাদ্দাম, মৃত-কাশেম মিরের ছেলে ইলিয়াছ, আমিন হোসেনের ছেলে এমরান। তারা সবাই একই ইউনিয়নের বাসিন্দা।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার উত্তর চর রমনী মোহন হতে হোলার চর, দিঘলা চর, পাতার চর, হটকের চর সহ নতুন মেঘা পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে ওই ইউনিয়নের জেলে সম্প্রদায়। সম্প্রতি মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে মাছ স্বীকার করতে গেলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ ছৈয়াল ও তার লোকজন অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে জেলেদের কাছে চর প্রতি ৩ লাখ টাকা হারে চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত চাঁদা না দিলে নদীতে মাছ ধরতে না দেওয়ার হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় জেলেরা লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ওই ইউপি চেয়ারম্যান।

ঘটনার দিন শনিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে মেঘনা নদীর দিঘার চরের পশ্চিম পাড়ে জেলে শাহজাহান মোল্লাসহ কয়েকজন জেলে মাছ শিকারে যায়। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ ছৈয়ালের নেতৃত্বে এক দল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমন করে জেলেদের জিম্মি করে নৌকা প্রতি ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় জেলের বেধম মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের লোকজন দেড় লাখ টাকা মূল্যের মাছ ধরার জাল এবং ১ লাখ টাকা মূল্যের মাছ লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দিলে জেলেদের নদীতে মাছ শিকার করতে দেবে না বলে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন হুমকি ধমকি দেয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে নদীতে মাছ শিকারে যেতে না পারায় বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন জাপন করছেন তারা। এ ঘটনার অভিযুক্ত ইউপি চেয়রম্যানের সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন ভূক্তোভোগীরা।

অভিযোগের বিষয়ের জানতে চাইলে চর মোহন ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান চাদা দাবীর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মূলত শাহজাহান মোল্লাসহ কয়েকজন অবৈধ মাছ ঘাটা পরিচালনা করার অভিযোগে উপজেলা অফিসে অভিযোগ দেওয়া হয়। এবিষয়ে আমি তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদ দেই। তাই আমার বিরুদ্ধে এমব অভিযোগ তুলেছে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, আদালতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবীর অভিযোগ তদন্তের আদেশ এখনও হাতে আসেনি। হাতে পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।